Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘সিংহম’ বিতর্কের মধ্যেই নতুন পদক্ষেপ ফলতায়! পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে জয়েন্ট বিডিও-কে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

কমিশন সূত্রে খবর, ফলতার জয়েন্ট বিডিওর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর জায়গায় ফলতার নতুন জয়েন্ট বিডিও করা হয়েছে রম্য ভট্টাচার্যকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৮
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার যুগ্ম বিডিও সৌরভ হাজরাকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে পুরুলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর জায়গায় ফলতার নতুন যুগ্ম বিডিও করা হয়েছে রম্য ভট্টাচার্যকে।

ঘটনাচক্রে, এই ফলতাতেই পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার কনভয় ঘিরে মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলা হয়েছে। তবে কমিশন সূত্রে দাবি, অজয়পালের সঙ্গে ফলতার যুগ্ম বিডিওর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কোনও সম্পর্ক নেই।

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে ফলতা। সেখানে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পালের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দাবি, জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে গিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার সেই বিতর্ক আরও বাড়ে অজয়পালের কনভয়ের সামনে বিক্ষোভে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার অগ্রবাল জানিয়েছেন, ফলতার ঘটনায় চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন অজয়পাল। তবে সিইও দফতর নিজে থেকে রিপোর্ট চাইবে না।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাড়তি নজরদারির জন্য কমিশন নতুন করে যে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করেছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অজয়পাল। তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’। রয়েছেন প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে। সোমবার রাতে জাহাঙ্গিরের বাড়িতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী হানা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। তার নেতৃত্বে ছিলেন এই অজয়পাল। রাতে জাহাঙ্গিরের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। তবে এলাকায় গিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর পরিচিতদের বুঝিয়ে দিয়ে এসেছিলেন, ভোটারদের হুমকি দিলে ফল ভাল হবে না। এই ঘটনার পর পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। জাহাঙ্গির জানান, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তাঁরাও এক এক জন ‘পুষ্পা’। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কাছে তাঁরা মাথা নত করবেন না।

এর পর মঙ্গলবার সকালে অজয়পাল এবং জাহাঙ্গিরেরা মুখোমুখি হন। ফলতার তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অজয়পালের কনভয় যাওয়ার পর ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। বিক্ষোভের জেরে বেশ কিছু ক্ষণ কনভয় আটকে ছিল। তার পিছনের কয়েকটি গাড়িও আটকে পড়েছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলতার যুগ্ন বিডিও-কে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হল। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের আগে-পরে ফলতায় অতিরিক্ত বাহিনীকে তৈরি রাখা হচ্ছে। ভোটের আগের দিন এলাকায় বাহিনী নিয়ে টহল দিচ্ছেন অজয়পাল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
South 24 Parganas Falta BDO TMC Election Commission Ajay Pal Sharma
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy