দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার যুগ্ম বিডিও সৌরভ হাজরাকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে পুরুলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর জায়গায় ফলতার নতুন যুগ্ম বিডিও করা হয়েছে রম্য ভট্টাচার্যকে।
ঘটনাচক্রে, এই ফলতাতেই পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার কনভয় ঘিরে মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলা হয়েছে। তবে কমিশন সূত্রে দাবি, অজয়পালের সঙ্গে ফলতার যুগ্ম বিডিওর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কোনও সম্পর্ক নেই।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে ফলতা। সেখানে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পালের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দাবি, জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে গিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার সেই বিতর্ক আরও বাড়ে অজয়পালের কনভয়ের সামনে বিক্ষোভে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার অগ্রবাল জানিয়েছেন, ফলতার ঘটনায় চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন অজয়পাল। তবে সিইও দফতর নিজে থেকে রিপোর্ট চাইবে না।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাড়তি নজরদারির জন্য কমিশন নতুন করে যে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করেছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অজয়পাল। তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’। রয়েছেন প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে। সোমবার রাতে জাহাঙ্গিরের বাড়িতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী হানা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। তার নেতৃত্বে ছিলেন এই অজয়পাল। রাতে জাহাঙ্গিরের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। তবে এলাকায় গিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর পরিচিতদের বুঝিয়ে দিয়ে এসেছিলেন, ভোটারদের হুমকি দিলে ফল ভাল হবে না। এই ঘটনার পর পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। জাহাঙ্গির জানান, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তাঁরাও এক এক জন ‘পুষ্পা’। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কাছে তাঁরা মাথা নত করবেন না।
এর পর মঙ্গলবার সকালে অজয়পাল এবং জাহাঙ্গিরেরা মুখোমুখি হন। ফলতার তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অজয়পালের কনভয় যাওয়ার পর ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। বিক্ষোভের জেরে বেশ কিছু ক্ষণ কনভয় আটকে ছিল। তার পিছনের কয়েকটি গাড়িও আটকে পড়েছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলতার যুগ্ন বিডিও-কে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হল। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের আগে-পরে ফলতায় অতিরিক্ত বাহিনীকে তৈরি রাখা হচ্ছে। ভোটের আগের দিন এলাকায় বাহিনী নিয়ে টহল দিচ্ছেন অজয়পাল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:৫৭
প্রথম দফায় ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে রাজ্যের ১৮২টি বুথে! সবচেয়ে বেশি রানিনগর এবং চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে -
১৯:৫৪
গভীর রাতে ফিরহাদের বাড়িতে পুলিশ পর্যবেক্ষক, কেন্দ্রীয় বাহিনী! মেয়র জানান, ‘ভবানীপুর নিয়ে হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হয়েছে -
১৯:০০
ভবানীপুরে মমতাকে জেতাতে ‘নকল আঙুল’ কিনেছে তৃণমূল! নমুনা দেখিয়ে দাবি করলেন প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু, কী জবাব শাসকদলের -
১৭:৫০
গত ৬০ ঘণ্টায় নানা অভিযোগে গ্রেফতার ২,৪৭৩ জন! জানাল কমিশন, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দিকে দিকে তৎপরতা -
১৬:০৮
ফলতায় বিক্ষোভ নিয়ে চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন ‘সিংহম’ অজয়পাল, নিজে থেকে সিইও দফতর চাইবে না: মনোজ