বলিউড অভিনেতা শাহিদ কপূরের শেষ দুটি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দেবা’ এবং ‘ও রোমিয়ো’ বক্সঅফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। মুক্তির আগে ছবিগুলি ঘিরে যথেষ্ট আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হলেও শেষপর্যন্ত দর্শকের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে অভিনেতা ব্যস্ত তাঁর আসন্ন ছবি ‘ককটেল ২’-এর প্রচারে।
সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে শাহিদ স্পষ্ট জানান, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, শেষ দুটি ছবির হতাশাজনক ফল তাঁকে চিত্রনাট্য নির্বাচনের পদ্ধতি বদলাতে বাধ্য করেছে।
অভিনেতার মতে, দীর্ঘদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেও সাফল্যের কোনও নিশ্চয়তা থাকে না। তিনি বলেন, “অনেক বছর কাজ করার পর মনে হয় হয়তো সিদ্ধান্তগুলো আরও সঠিক হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। আপনি কত বছর কাজ করেছেন, তার সঙ্গে সাফল্যের সরাসরি সম্পর্ক নেই। সিনেমা অত্যন্ত অনিশ্চিত একটি মাধ্যম। এক জন অভিনেতা হিসাবে ছবির ফলাফল পুরোপুরি আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। পরিচালকই শেষপর্যন্ত ফ্রেম ঠিক করেন এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ।”
শাহিদ আরও জানান, সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর তিনি নিজের কাজের ধরনে একটি বড় পরিবর্তন এনেছেন। আগে তিনি একাই গল্প বা চিত্রনাট্য শুনতেন এবং সিদ্ধান্ত নিতেন। এখন আর তা করেন না।
এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, “আমি এখন আমার টিমকে জিজ্ঞাসা করি যে, কোন ছবি করা উচিত। কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি সবসময় সঠিক নই। ক্যামেরার সামনে কী করতে হবে, সেটা আমি ভাল জানি। কিন্তু কোন ছবি বেছে নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমার বিচার হয়তো শুধুই শিল্পসত্তার দ্বারা পরিচালিত হয়, যা সবসময় দর্শকের কাছে পৌঁছোয় না। তাই এখন আমি চাই, চিত্রনাট্য শোনার সময় আমার সঙ্গে আরও তিন জন থাকুক। আগে সবসময় একাই শুনতাম, কিন্তু এই দুটি ছবির পর সেটা বদলে ফেলেছি। আমি চাই না শুধুমাত্র আমার কল্পনার উপরই সিদ্ধান্ত নির্ভর করুক।”
আরও পড়ুন:
শাহিদের এই স্বীকারোক্তি বলিউডে একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার আত্মসমালোচনার বিরল উদাহরণ বলেই মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, নতুন কৌশল এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত তাঁর আগামী ছবি ‘ককটেল ২’-এর সাফল্যে কতটা প্রভাব ফেলে।