দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তৎপর নির্বাচন কমিশন। গত ৬০ ঘণ্টায় রাজ্যের ভোটমুখী এলাকাগুলি থেকে মোট ২,৪৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কমিশনের তরফে মঙ্গলবার বিকেলে এই পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। দিকে দিকে পুলিশের বাড়তি নজরদারি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়ছে।
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ঘণ্টায় গড়ে ৪১ জন করে গ্রেফতার হয়েছেন। সাত জেলার ১৪২টি আসনে বুধবার ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। রাজ্যে প্রথম দফার ভোট হয়ে গিয়েছে গত ২৩ এপ্রিল। সেই ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। দু’-একটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত গোলমাল ছাড়া তেমন কিছু ঘটেনি। তবে দ্বিতীয় দফায় সেই ধরনের কোনও গোলমালও চাইছে না কমিশন। তাই বাড়তি পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বুধবারের জন্য। জেলায় জেলায় চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, পুলিশের তল্লাশি অভিযান এবং গ্রেফতারি। শুধু সোমবার রাতেই ৮০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কিছু জেলা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছে। সোমবার প্রচারের শেষ দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার কনভয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এবং তাঁর অনুগামীরা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। সেখানেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে ভোট শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সূত্রের খবর, ভোটের আগে মূলত ‘ঝামেলাবাজ’দের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এর আগে কমিশন যে পরিসংখ্যান দিয়েছিল, তাতে রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১০৯৫ জনকে গ্রেফতার করার কথা বলা হয়েছিল। এ বার ৬০ ঘণ্টার হিসাব দেওয়া হল। তবে কোন জেলা থেকে কোথায় এবং ঠিক কী অভিযোগে এই সমস্ত গ্রেফতারি, তা জানানো হয়নি।
সোমবার সকাল পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, তাতে গ্রেফতারির নিরিখে সবার উপরে ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা। ওই জেলায় ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ২৪৬ জনকে। নদিয়ায় গ্রেফতারির সংখ্যা ছিল ৩২। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল যথাক্রমে ৪৯ জন এবং ৩১৯ জনকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৬:০৮
ফলতায় বিক্ষোভ নিয়ে চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন ‘সিংহম’ অজয়পাল, নিজে থেকে সিইও দফতর চাইবে না: মনোজ -
১৪:৫৩
হুঁশিয়ারির পরদিনই মুখোমুখি ‘সিংহম’ অজয়পাল এবং ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির! পুলিশ পর্যবেক্ষকের সামনেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান -
১৩:১৭
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মুখেই এক রাতে গ্রেফতার ৮০৯ জন! প্রাক্নির্বাচনী বিক্ষিপ্ত অশান্তির মাঝে জানাল নির্বাচন কমিশন -
১২:৫৮
‘মমতাকে হুমকি’ দিয়ে বিজেপির মুখপাত্রের পোস্টের ‘স্ক্রিনশট’ তুলে ধরে তৃণমূলের নিশানায় কমিশনও -
১২:১৩
‘আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে তৃণমূলের ৩৫০০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কমিশনের’! ফের হাই কোর্টে আইনজীবী কল্যাণ