Advertisement

নবান্ন অভিযান

৪৮ ঘণ্টা দল বেঁধে বাইকযাত্রা বন্ধ! তবে হাওয়া খেতে যেতে বাধা নেই, কমিশনের মামলায় বলল হাই কোর্ট, কী কী নির্দেশ

সিঙ্গল বেঞ্চ বাইক নিয়ে এর আগে যে রায় দিয়েছিল, তাতে ডিভিশন বেঞ্চ পুরোপুরি হস্তক্ষেপ করেনি। ‘গ্রুপ রাইডিং’-এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৪
ভোটের আগে বাইক চালানোয় নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা।

ভোটের আগে বাইক চালানোয় নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৪৮ ঘণ্টা দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না, জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে সেই সঙ্গে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কেউ যদি বাইক নিয়ে হাওয়া খেতে বেরোতে চান, তবে তাতে বাধা দেওয়া যাবে না। ‘গ্রুপ রাইডিং’-এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সিঙ্গল বেঞ্চ বাইক নিয়ে এর আগে যে রায় দিয়েছিল, তাতে ডিভিশন বেঞ্চ পুরোপুরি হস্তক্ষেপ করেনি।

ভোটের দু’দিন আগে বাইক চলাচলে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল কমিশন। তা‌ নিয়ে হাই কোর্টে মামলা হয়েছিল। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ কমিশনের সেই নির্দেশে কিছু সংশোধন করে দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, বাইক র‌্যালি নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রী নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। ভোটের দিন পরিবার নিয়ে বাইকে করে ভোট দিতে যাওয়া যাবে। একক বেঞ্চের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সোমবার হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় কমিশন। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে সেই সংক্রান্ত শুনানি হয়েছে।

বিচারপতি সরকার জানিয়েছেন, ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টা বাইকে ‘গ্রুপ রাইডিং’ নিষিদ্ধ থাকবে। দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। বিচারপতি সরকারের মন্তব্য, ‘‘কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। কারও যদি ইচ্ছে হয় বাইকে করে মুক্ত বাতাস নিতে যাবেন, তাতে বাধা কোথায়? সেখানে আমরা বাধা দিতে পারি না।’’

অন্য কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশন এমন কোনও পদক্ষেপ করেছে বলেও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। আদালত জানিয়েছে, নজির হিসাবে অন্য রাজ্যের উদাহরণ দেখালে তা বিবেচনা করা হত। তবে ‘গ্রুপ রাইডিং’ করা যাবে না।

গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোট হয়ে গিয়েছে। ২৯ এপ্রিল, বুধবার দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ রয়েছে। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ, সোমবার থেকেই আদালতের বাইক সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর হবে। দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যে প্রচারের শেষ দিন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রচার করা যাবে। প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বাইক র‌্যালি-র মতো কর্মসূচি রাখছে। আদালতের নির্দেশের পর তা আর করা যাবে না। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বার্থেই একক বেঞ্চের নির্দেশে সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপ করা গেল না।

এর আগে কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। কিন্তু এই সময় বাইকের পিছনে কোনও যাত্রী বসতে পারবেন না। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। তবে শর্ত হল, ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা জরুরি কোনও কাজে বাইক নিয়ে বেরোলে তবেই এই ছাড় মিলবে। জরুরি প্রয়োজনে (যেমন চিকিৎসা, পারিবারিক কাজ কিংবা স্কুলে শিশুদের নিয়ে যাওয়া-নিয়ে আসা) এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য যাঁরা বাইকে সওয়ার হবেন, তাঁদেরও ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অ্যাপভিত্তিক বাইক পরিষেবা বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছিল কমিশন। তবে বলা হয়েছিল, এর বাইরে কেউ বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে চাইলে তাঁকে স্থানীয় থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা হয়েছিল। একক বেঞ্চ জানিয়েছিল, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা ব্যবহার করতে হবে। কোনও আইন বা আদর্শ কার্যপদ্ধতিতে (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) বাইক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলা নেই। তাই ওই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিযুক্ত নয় বলে জানিয়েছিল আদালত।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Election Commission Bike Rally
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy