Advertisement

নবান্ন অভিযান

হুঁশিয়ারির পরদিনই মুখোমুখি ‘সিংহম’ অজয়পাল এবং ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির! পুলিশ পর্যবেক্ষকের সামনেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ফলতা বিধানসভার নানা জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে রুট মার্চ করেন অজয়পাল শর্মা। খানপাড়া এলাকায় জাহাঙ্গির খানের দলীয় কার্যালয়ের ঠিক পাশের পাড়াতেই খোঁজখবর করতে যান ওই পুলিশ পর্যবেক্ষক। তখনই স্লোগান তোলে তৃণমূল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৩
Ajay pal Sharma and Jahangir Khan

(বাঁ দিকে) অজয়পাল শর্মা। (ডান দিকে) জাহাঙ্গির খান। ছবি: সংগৃহীত।

সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁকে ‘সাবধান’ হতে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। মঙ্গলবার জাহাঙ্গিরের প্রায় সামনাসামনি হল তাঁর কনভয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দিয়ে ‘সিংহম’ অজয়পালের কনভয় যাওয়ার সময় উঠল ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। নেতৃত্বে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির স্বয়ং। এমনকি, বিক্ষোভের জেরে খানিক ক্ষণের জন্য অজয়পালের কনভয়ের পিছনের দিকে কয়েকটি গাড়িও আটকে গেল।

ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়িতে সোমবার হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং এ রাজ্যের অন্যতম পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল। ভোটারদের হুমকি দিলে ফল ভাল হবে না, মোটামুটি এটাই জাহাঙ্গিরের পরিচিতদের বুঝিয়ে চলে যান আদিত্যনাথের রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’। ওই ঘটনার পরে ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। রাতেই জাহাঙ্গির বলেন, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তাঁরাও এক এক জন ‘পুষ্পা’। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণে কেউ মাথা নত করবেন না।

এমতাবস্থায় মঙ্গলবার সকাল হতেই ফলতা বিধানসভার নানা জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে রুট মার্চ করেন অজয়পাল। খানপাড়া এলাকায় জাহাঙ্গিরের দলীয় কার্যালয়ের ঠিক পাশের পাড়াতেই খোঁজখবর করতে যান পুলিশ পর্যবেক্ষক। গন্ডগোল পাকাতে পারেন এমন কয়েক জনের নামের তালিকা নিয়ে তাঁদের খোঁজ নেন তিনি। সেখান থেকে অজয়পালের গাড়ি করে বার হওয়ার সময় তৃণমূলের লোকজন ‘গো ব্যাক’, ‘জয় বাংলা’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে শুরু করেন। অজয়পালের গাড়ি বেরিয়ে গেলেও তাঁর কনভয়ের পিছনের দিকে কয়েকটি গাড়ি থমকে যায়।

ঠিক সেই সময় স্লোগানের জোর বাড়ান জাহাঙ্গিররা। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। শুধু শুধু তৃণমূলের লোকজন থেকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে চাইছেন ওই পুলিশ আধিকারিক। তিনি বলেন, ‘‘ওই পুলিশ অবজ়ার্ভার বিজেপির কথায় চলছেন। শান্ত ফলতাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন। এলাকায় গিয়ে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। ভোটারদের তুলেও নিয়ে যাচ্ছেন বলে শুনেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মভূমি। জাহাঙ্গিরের জন্মভূমি। এখানকার মানুষকে চমকাতে পারবে না বিজেপি এবং তাদের কথায় চলা কমিশন। মানুষ ঠিক ভোটের দিনে বুঝে নেবেন।’’

ওই বিক্ষোভ নিয়ে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘‘ওদের কাজ ঠিক না ভুল সেটা কমিশন ঠিক করবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ বার ভোট না-দিতে পারলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তখন তৃণমূলকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।’’

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
২ ঘণ্টা আগে
Police Observer Jahangir Falta TMC Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy