Advertisement

নবান্ন অভিযান

আবার বহরমপুরে অধীরের প্রচারে অশান্তি, কংগ্রেস প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ তৃণমূলের, দেওয়া হল ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও

জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বহরমপুর শহরের ৩, ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অধীর। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। অভিযোগ, অধীর এলাকায় ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে ধরে একদল লোক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৫
Chaos reigns again in Adhir Chowdhury\\\\\\\\\\\\\\\'s election campaign in Baharampur, allegation against TMC

বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর প্রচারে আবার বিশৃঙ্খলা। —নিজস্ব চিত্র।

আবার বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারে উত্তেজনা। এই নিয়ে পরপর তিন দিন। রবিবার সকালে বহরমপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে প্রচার করছিলেন অধীর। অভিযোগ, সে সময় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। দফায় দফায় তাঁর উদ্দেশে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার এক বার বহরমপুরে চাঞ্চল্য ছড়াল।

জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বহরমপুর শহরের ৩, ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অধীর। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। অভিযোগ, অধীর এলাকায় ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে ধরে একদল লোক। তাঁদের হাতে ছিল তৃণমূলের পতাকা। ক্রমাগত ‘গো ব্যাক’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে অধীরকে এলাকা থেকে বার করে দেয়। বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না-ঘটলেও বারবার অধীরের প্রচারে বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের ফাঁকে অধীর বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে এই শহরকে ভয়মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত করব। করব তো করবই।’’

শনিবারও একই ভাবে অধীরের প্রচারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বহরমপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর মিছিল ঢুকতেই তাঁকে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। অধীরকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয়। সময় যত গড়াতে থাকে, উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ে। ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। শনিবারের ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানায় কংগ্রেস।

রাতের দিকে বহরমপুরে কংগ্রেসের ভোটপ্রচারে অশান্তির ঘটনায় পদক্ষেপ করে কমিশন। তাদের নির্দেশে বহরমপুরের আইসি শুভাশিস ঘোষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ। একই সঙ্গে ওই অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানায় কমিশন। শনিবারের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে।’’ যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, বাইরে থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন অধীর। শুক্রবার রাতেও অধীরকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Adhir Chowdhury Election Campaign TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy