আবার বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারে উত্তেজনা। এই নিয়ে পরপর তিন দিন। রবিবার সকালে বহরমপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে প্রচার করছিলেন অধীর। অভিযোগ, সে সময় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। দফায় দফায় তাঁর উদ্দেশে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার এক বার বহরমপুরে চাঞ্চল্য ছড়াল।
জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বহরমপুর শহরের ৩, ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অধীর। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। অভিযোগ, অধীর এলাকায় ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে ধরে একদল লোক। তাঁদের হাতে ছিল তৃণমূলের পতাকা। ক্রমাগত ‘গো ব্যাক’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে অধীরকে এলাকা থেকে বার করে দেয়। বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না-ঘটলেও বারবার অধীরের প্রচারে বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের ফাঁকে অধীর বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে এই শহরকে ভয়মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত করব। করব তো করবই।’’
শনিবারও একই ভাবে অধীরের প্রচারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বহরমপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর মিছিল ঢুকতেই তাঁকে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। অধীরকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয়। সময় যত গড়াতে থাকে, উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ে। ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। শনিবারের ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানায় কংগ্রেস।
আরও পড়ুন:
রাতের দিকে বহরমপুরে কংগ্রেসের ভোটপ্রচারে অশান্তির ঘটনায় পদক্ষেপ করে কমিশন। তাদের নির্দেশে বহরমপুরের আইসি শুভাশিস ঘোষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ। একই সঙ্গে ওই অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানায় কমিশন। শনিবারের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে।’’ যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, বাইরে থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন অধীর। শুক্রবার রাতেও অধীরকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
০০:৪২
‘এই জয় আমার, জয় সিপিএমের’! বাতিল ভোটারদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে দাবি মোস্তারির -
২৩:২২
তৃণমূলের হয়ে প্রচারের অভিযোগ! রাজ্যের পাঁচ বিএলও-কে সাসপেন্ড করল কমিশন, তিন জনের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ -
২২:৪৮
‘প্রচার রুখতেই নজরবন্দি করা হচ্ছে’! দেবাশিস-সহ নানা তৃণমূল নেতার বাড়িতে আয়কর হানা নিয়ে কী কী বললেন মমতা -
২০:৩১
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, আমি এত উদার নই’! তারিখ দিয়ে ‘অত্যাচারের হিসাব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি অভিষেকের -
১৯:৩৩
পাহাড়ের জনতাকে ভোটমুখী করতে ‘হাতিয়ার’ টয় ট্রেন, দার্জিলিঙে যাত্রা শুরু করল ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস’!