Advertisement

নবান্ন অভিযান

তৃণমূলের অফিস দখল করে নিল সিপিএম! মুর্শিদাবাদে শাসকদল ছেড়ে লাল পতাকা হাতে নিল ৪০০ পরিবার

দলত্যাগীদের দাবি, দীর্ঘদিন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁরা উপযুক্ত সম্মান পাচ্ছিলেন না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৫
তৃণমূল কার্যালয় দখল করতে মিছিল করে যাচ্ছেন সিপিএম কর্মীরা।

তৃণমূল কার্যালয় দখল করতে মিছিল করে যাচ্ছেন সিপিএম কর্মীরা। — নিজস্ব চিত্র।

এক দিন আগে পর্যন্ত ছিল তৃণমূলের দফতর। আজ তা সিপিএমের!

ভোটের মুখে দলবদল এ রাজ্যে এখন চেনা ছবি। এ বার শাসকদল তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগদান করলেন শতাধিক ব্যক্তি। তার পরে তাঁরা দখল করলেন তৃণমূলের পার্টি অফিস! শুক্রবার ডোমকল পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে এমনই এক ‘পালাবদল’ ঘটল। তৃণমূলের প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল মালিথা ওরফে বাবুর নেতৃত্বে প্রায় ৪০০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমের লাল পতাকা হাতে তুলে নিল। তার পরে ডোমকলে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের দখল নিল সিপিএম। দলত্যাগীদের দাবি, দীর্ঘদিন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁরা উপযুক্ত সম্মান পাচ্ছিলেন না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, এনামুলকে অনেক আগেই পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আর ওই পার্টি অফিস তাঁর নিজের বাড়িতেই ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে। সে সময় ডোমকলের সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার উপস্থিতিতে একটি সভায় শতাধিক ব্যক্তি আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগদান করেন। এর পরেই মিছিল করে সিপিএম কর্মীরা স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে গিয়ে নিজেদের পতাকা লাগিয়ে দেন এবং সেটির দখল নেন। এই ঘটনার জেরে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সংগঠন কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বাম নেতৃত্ব।

জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘ভোটের মুখে তৃণমূলের এই ভাঙন আমাদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া শাসকদলের কাছে এক বিরাট বড় ধাক্কা।’’ সিপিএম নেতাদের আরও দাবি, মানুষ তৃণমূলের উপর আস্থা হারিয়ে এখন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে লাল পতাকা ধরে সমবেত হচ্ছেন।

অন্য দিকে, ডোমকল শহর তৃণমূল নেতৃত্ব এই গোটা ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। শহর তৃণমূল সভাপতি কামরুজ্জামান শেখের দাবি, দুর্নীতি ও দলবিরোধী কাজের জন্য এনামুলকে অনেক আগেই ওয়ার্ড সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘দলে গুরুত্ব না পেয়ে উনি ঘরে বসে গিয়েছিলেন। যে পার্টি অফিসটি দখল করার কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে এনামুলের নিজের বাড়িতে রয়েছে। তাঁকে পদ থেকে সরানোর পরে তৃণমূলের কেউ সেখানে বসতেন না।’’ এই দলবদলে শাসকদলের সাংগঠনিক কোনও ক্ষতি হবে না বলেও তিনি জানান।

ভোটের আগে এই ঘটনায় এলাকা বেশ থমথমে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডোমকলের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডোমকলের এই সমীকরণ বদল সিপিএম-কে কতটা চাঙ্গা করে, এখন সে দিকেই নজর।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy