বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে নজরকাড়া লড়াই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। সেই লড়াইয়ের উত্তাপ ইতিমধ্যেই অনুভব করতে শুরু করেছেন রাজ্যবাসী। এ বার সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার (আরও) হিসাবে নিযুক্ত আধিকারিককে অপসারণের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। শুক্রবার তৃণমূলের তরফে এক প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে যায়। সেখানেই তারা ভবানীপুর বিধানসভার ‘আরও’ সুরজিৎ রায়কে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি তোলেন। রাজ্যের যুবকল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে এই দাবিতে একটি স্মারকলিপি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হাতে তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ মার্চ এই বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে তিন জন উপযুক্ত আধিকারিকের নাম-সহ একটি প্যানেল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ মেনে দ্রুত প্যানেল পাঠালেও এখনও পর্যন্ত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বর্তমান ‘আরও’ তাঁর পদে বহাল রয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের অতীত কর্মজীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, নাম না-করে বিজেপি নেতা শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ওই স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, সুরজিৎ আগে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বিরোধী দলের এক প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি। সেই প্রার্থীই বর্তমানে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এই পরিস্থিতিতে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ তৈরি হওয়া ‘স্বাভাবিক’ বলেই দাবি তৃণমূলের। এ ছাড়াও, ওই আধিকারিকের বর্তমান পদমর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি যে পদে রয়েছেন তা সাধারণত উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য নির্ধারিত। তুলনামূলক কম ‘সিনিয়রিটি’ থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই পদে নিয়োগ পাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের নিয়োগকে ‘অস্বাভাবিক’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।
তৃণমূলের দাবি, রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনোনয়ন গ্রহণ, যাচাই, ভোট পরিচালনা ও ফল ঘোষণা— সব ক্ষেত্রেই তাঁর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রভাব। তাই তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠলে তা গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করতে পারে। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং আদর্শ আচরণবিধির উল্লেখ করে তৃণমূল জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আধিকারিক নিয়োগ করা। এই প্রেক্ষিতে তৃণমূল চার দফা দাবি জানিয়েছে— অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে অপসারণ, তাঁকে সমস্ত নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানো, তাঁর পরিবর্তে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সিনিয়র আধিকারিক নিয়োগ এবং কেন এখনও পর্যন্ত পদক্ষেপ করা হয়নি তার লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপির শেষাংশে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, বিলম্ব হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ভবানীপুরের ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেছে তৃণমূল।