E-Paper

দেশসেবা আর মহাকাশের স্বপ্ন মেশাতে চান মির

সৈয়দ হায়দর পাবলিক স্কুল থেকে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ২০২৩ সালে ৯৮.২ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেন তিনি। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার দিকে যাননি।

সাবির ইবন ইউসুফ

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ০৯:০০
মির সেহরিশ। নিজস্ব চিত্র

মির সেহরিশ। নিজস্ব চিত্র

জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য একদা বারবার শিরোনামে এসেছে উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারার নাম। কিন্তু সেখানকারই এক ছোট্ট গ্রামে বসে একেবারে অন্য এক কাহিনি তৈরি করছেন বছর তেইশের মির সেহরিশ। যা কাশ্মীরি তরুণীদের মধ্যে ব্যতিক্রমী বলে মেনে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

কুপওয়ারার ছোট্ট গ্রাম লোন হারিতে বাড়ি মিরের। সম্প্রতি সামরিক প্রশিক্ষণের মর্যাদাপূর্ণ কেন্দ্র ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি’-র প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেছেন। এ বার গুরুত্বপূর্ণ ‘সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড’-এর ইন্টারভিউয়ে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি’ থেকে পাশ করে বায়ুসেনায় যোগ দিতে চান ওই কাশ্মীরি তরুণী। শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। মহাকাশচারীদের বায়ুসেনা থেকেই বেছে নেওয়া হয়।

লোন হারি থেকে ফোনে মির আনন্দবাজারকে বললেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই আমি মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখি।’’ কাশ্মীরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের ডাক্তারি বা অন্য প্রথাগত পেশাদার কোর্স পড়তে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু মির প্রথম থেকেই তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে হাঁটার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। সৈয়দ হায়দর পাবলিক স্কুল থেকে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ২০২৩ সালে ৯৮.২ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেন তিনি। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার দিকে যাননি।

স্যার সৈয়দ মেমোরিয়াল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে মির পড়াশোনা করেন পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও বায়োটেকনোলজি নিয়ে। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাতেও সাফল্য পান মির। মিরের কথায়, ‘‘আমার পরিবারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বাবা-মা কখনও আমায় ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্য কোনও বিষয় পড়তে চাপ দেননি। বরং আমার আগ্রহের বিষয়ের দিকেই এগোতে উৎসাহ দিয়েছেন। অনেক সময়েই বাবা-মা তাঁদের ইচ্ছে সন্তানদের উপরে চাপিয়ে দেন। তাতে সন্তানেরা শেষ পর্যন্ত সাফল্য পায় না।’’

মিরের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিকাঠামোও। কাশ্মীরে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি’-র পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের কোনও কোচিং সেন্টার নেই। ফলে কোনও পড়ুয়ার সে পথে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে তিনি সাধারণত উপত্যকা ছেড়ে চলে যান। কিন্তু মির সেই প্রশিক্ষণের অভাব মিটিয়েছেন অনলাইন মঞ্চের প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে। গুরুত্ব দিয়েছেন গণিত, যুক্তি (রিজনিং) ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির (কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) মতো বিষয়কে। যার ফলেই ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি’-র পরীক্ষায় সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

মিরের বাবা ওয়ালি মহম্মদ কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসূত্রে বর্তমানে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। ফোনে আনন্দবাজারকে জানালেন, ‘‘আমার মেয়ে নিজেই নিজের রাস্তা বেছে নিয়েছে। আমি সব সময়েই ওকে উৎসাহ দিয়েছি। ওর সাফল্যের জন্য প্রার্থনা জানাচ্ছি।’’ মিরের কথায়, ‘‘আমার প্রথম পছন্দ বায়ুসেনা। তা না হলে নৌসেনা বা সেনায় যোগ দেব। দেশের সেবা করার সঙ্গে আকাশে ওড়ার আনন্দ মিশিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটাই আমার অনুপ্রেরণা।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jammu and Kashmir National Defence Academy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy