Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোট দেওয়ার আগে দু’ধাপে পরিচয় যাচাই ভোটারদের, ‘পাশ’ করলে তবেই মিলবে ভোটদানে অনুমতি, কড়া নির্দেশ কমিশনের

প্রচারপর্ব শেষ হওয়ার পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করণীয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, যে সব এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার বেশি, সেই এলাকাগুলিতে বেশি করে নজর দিতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪৫
বুথের বাইরে ভোটারদের লাইন।

বুথের বাইরে ভোটারদের লাইন। —ফাইল চিত্র।

নির্বাচনের দিন ভোটকক্ষে সঠিক ভোটার প্রবেশ করছেন কি না, তা দু’ধাপে যাচাই করতে হবে। দু’দফায় ‘পাশ’ করার পরেই ভোটকক্ষে প্রবেশের অনুমতি পাবেন কোনও ভোটার। রাজ্যের ভোট সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রত্যেক বুথে ভোটারেরা ভোট দেওয়ার আগে তাঁদের পরিচয় যাচাই করার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। এ বার সেই নিয়মে আরও কড়াকড়ি করল কমিশন। জানিয়ে দেওয়া হল, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয় দু’ধাপে যাচাই করতে হবে। প্রথম ধাপে যাচাই করবেন সেখানে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তার পরের ধাপে যাচাই করবেন বুথস্তরের আধিকারিক (বিএলও)-রা।

কমিশন জানিয়েছে, ভোট দিতে যাওয়া কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কমিশনের নির্ধারিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে যে কোনও একটির মূল (অরিজিনাল) কপি অবশ্যই থাকতে হবে। তা রয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করবেন সেখানে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। কমিশন নির্ধারিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে কোনও একটির মূল কপি দেখাতে পারলে, তবেই প্রথম ধাপে ‘পাশ’ করবেন ওই ভোটার। দ্বিতীয় ধাপে তাঁর পরিচয় যাচাই করবেন সেই ভোটকেন্দ্রে তৈরি ‘ভোটার সহায়তা বুথ’-এ উপস্থিত বিএলও। সঠিক ভোটারই ভোট দিতে এসেছেন কি না, তা নিশ্চিত করবেন বিএলও।

Advertisement

বিএলও-র কাছে যাচাই পর্বে পাশ করলেই তবেই ওই ভোটারকে বুথের ভিতরে ভোট দিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া কঠোর ভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজরদারি চালাতে হবে সংশ্লিষ্ট সেক্টর অফিসারদের। কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রগুলিতে যাতে কোনও ধরনের অনভিপ্রেত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপগুলি করতে হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। ২৯ এপ্রিল রয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোট। প্রথম দফার ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ (যে সময় থেকে প্রচার বন্ধ হয়) শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে তা শুরু হচ্ছে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে। ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করণীয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক সেরেছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র দফতর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করতে ১৬৩ ধারা জারি করতে হবে। যে সব এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার বেশি, সেই এলাকাগুলিতে বেশি করে নজর দিতে বলেছে কমিশন।

একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনওরকম নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ওই ১০০ মিটারের পরিধিকে চক বা রঙ দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে তা সকলে দেখতে পান। বলে দেওয়া হয়েছে, ভোটার নন এমন কোনও ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে বা তার কাছাকাছি জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। ভোটকেন্দ্রের কাছে বা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সরু গলিগুলিতে যাতে কোনো ধরনের জমায়েত না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
৪০ মিনিট আগে
Election Commission Voters
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy