Advertisement

নবান্ন অভিযান

ফের কালীঘাটের ওসি বদল! দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতার আরও দুই থানায় রদবদল করল কমিশন

দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বদলের কথা জানানো হল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫০
Election Commission changes OCs of three police stations in Kolkata, including Kalighat

কালীঘাট থানা। — ফাইল চিত্র।

দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বদলের কথা জানানো হল। শুধু কালীঘাট নয়, কলকাতার আরও দুই থানার ওসি-কেও বদলে দিল কমিশন।

গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করেছিল কমিশন। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দিল কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হল গৌতম দাসকে। তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে ছিলেন।

শুধু ওসি নয়, কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসি-কেও বদলে দিয়েছে কমিশন। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের উত্তম পাইককে ওই দায়িত্বে আনা হয়েছে। এ ছাড়াও আলিপুর এবং উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি-কেও বদলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আলিপুর থানার নতুন ওসি করা হয়েছে সুব্রত পাণ্ডেকে। আর উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি-কেও বদল করল কমিশন। ওই থানার দায়িত্বে আনা হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। তিনি আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি ছিলেন।

Advertisement

কালীঘাট থানা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। আগামী ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফার ভোটে অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র ভবানীপুরই। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর বিপক্ষে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দেখা গিয়েছিল মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ। এ বার ভবানীপুর। ভোটের দিন তিনেক আগে মমতার বাড়ির এলাকার থানার ওসি, অতিরিক্ত ওসি বদল তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। তবে কেন এই বদলি, তা জানায়নি কমিশন। মনে করা হচ্ছে, ভোটের সময় ওই কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা আরও আঁটোসাঁটো করতে, নজরদারি বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, দিন দুয়েক আগেই হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি-কেও সরিয়ে দেয় কমিশন।

নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে আমলা এবং আইপিএস পদে বদল করছে কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন মধ্যরাত থেকে এই পর্ব শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করেছিল কমিশন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Kolkata Police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy