৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার (আরও)-কে অপসারণ করল নির্বাচন কমিশন। বেশির ভাগ মহকুমাশাসক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের আরও-কেও সরানো হয়েছে। সেখানে আরও হলেন সুরজিৎ রায়। তিনি ২০১১ সালের ডব্লিউবিসিএস অফিসার। এর আগে রাজ্যে এক ঝাঁক জেলাশাসকদের সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন।
রাজ্যে বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ২৯৪। সাধারণত প্রতিটি বিধানসভা ক্ষেত্রে এক জন করে রিটার্নিং অফিসার থাকেন। অর্থাৎ, রাজ্যে আরও-র সংখ্যা ২৯৪। তাঁদের মধ্যে ৭৩ জনকে অপসারণ করা হল, যাঁদের বেশির ভাগই মহকুমাশাসক (এসডিও)। সোমবার সেই নিয়ে নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। নির্দেশিকা অনুসারে, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদহ সদর, মুর্শিদাবাদের লালবাগ, ব্যারাকপুর, বিধাননগর, বারাসত, ক্যানিং, বারুইপুর, আলিপুর, হাওড়া সদর, বুগলি সদর, তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া, এগরা, ঘাটাল, দুর্গাপুর, আসানসোলে নতুন এসডিও নিয়োগ করা হয়েছে। তুফানগঞ্জের এসডিও হয়েছেন শান্তনু কর্মকার, জলপাইগুড়িতে নির্মল ঘরামি, ব্যারাকপুররে এসডিও হয়েছেন যাদব সূর্যভান আচ্ছেলাল, হাওড়া সদরের এসডিও হয়েছেন বিবেক পঙ্কজ। সবচেয়ে বেশি রদবদল হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে ১৩ জন আরও-কে রদবদল করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১০ জন আরও-কে রদবদল করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরেও সংখ্যাটা একই। কলকাতায় ভবানীপুর এবং রাসবিহারী কেন্দ্রের আরও বদলি হয়েছেন।
গত বুধবার নির্দেশিকা জারি করে কমিশন রাজ্যের ১১ জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করার কথা জানায়। তালিকায় রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার। প্রত্যেকেই সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন। যাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের নতুন পদে নিয়োগ করা হয়।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর থেকেই একে একে আমলা, পুলিশ স্তরে রদবদল করে চলেছে কমিশন। ভোটঘোষণার পরেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। এর পর একে একে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-কে সরানো হয়। অপসারিত হন একাধিক জেলাশাসক, ডিআইজি। নবান্ন প্রতি ক্ষেত্রেই অপসারিত আধিকারিকদের নতুন পদে বহাল করেছে। সেই সঙ্গে কমিশনের এই ধরনের আচরণের নিন্দা করেছে শাসকদল তৃণমূল।
আরও পড়ুন:
এই নিয়ে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। সোমবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। মামলাকারীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আধিকারিক অপসারণ নিয়ে কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়েও। তবে কমিশনও এ ক্ষেত্রে আধিকারিকদের বদলির প্রসঙ্গে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির এজলাসে। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অনেক কারণ রয়েছে। পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সব জায়গায় পরিস্থিতি এক নয়। অন্যত্রও অফিসার বদলি করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়।”