বুধবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন জেলাশাসককে পদ থেকে অপসারণ করেছিল। বৃহস্পতিবারই তাঁদের মধ্যে ন’জনকে নতুন পদে নিয়োগ করল নবান্ন। নতুন পদ পেলেন কলকাতার দুই প্রাক্তন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকও (ডিইও)। নবান্নের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অবিলম্বে তাঁদের নতুন পদে দায়িত্ব নিতে হবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অপসারিত জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মীনাকে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের সচিব করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের অপসারিত জেলাশাসক পদে ছিলেন আয়েশা রানি। তাঁকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের অপসারিত জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা হচ্ছেন রাজ্যের কৃষি দফতরের বিশেষ সচিব। নদিয়ার অপসারিত জেলাশাসক নিখিল নির্মল স্কুল শিক্ষা দফতরের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। মালদহের অপসারিত জেলাশাসক প্রীতি গয়ালকে পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ সচিব করে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক ছিলেন সিয়াদ এন। তাঁকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব দিয়েছে নবান্ন। আলিপুরদুয়ারের অপসারিত জেলাশাসক অভিজিৎ তুকারাম প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব হচ্ছেন। কোচবিহারের অপসারিত জেলাশাসক রাজু মিশ্র পাচ্ছেন পরিবহণ দফতরের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব। জলপাইগুড়ির অপসারিত জেলাশাসক রবিপ্রকাশ মীনা গণশিক্ষা বিভাগের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন।
আরও পড়ুন:
কলকাতার প্রাক্তন দুই ডিইও-কেও নতুন পদ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত, কোনও জেলার জেলাশাসককে সেখানকার ডিইও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। কলকাতায় জেলাশাসক না থাকায় কোনও দফতরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। দক্ষিণ কলকাতায় সেই দায়িত্বে ছিলেন সুমিত গুপ্ত। তাঁকে নবান্ন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিবের দায়িত্ব দিয়েছে। উত্তর কলকাতার ডিইও হিসাবে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিছু দিন আগে। সেই পদ থেকে অংশুল গুপ্তকে বুধবার সরিয়ে দেয় কমিশন। নবান্ন তাঁকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব করে পাঠাল।
উল্লেখ্য, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর থেকেই একে একে আমলা, পুলিশ স্তরে ঢালাও রদবদল করে চলেছে কমিশন। ভোটঘোষণার পরেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। এর পর একে একে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-কে সরানো হয়। অপসারিত হন একাধিক জেলাশাসক, ডিআইজি। নবান্ন প্রতি ক্ষেত্রেই অপসারিত আধিকারিকদের নতুন পদে বহাল করেছে। সেই সঙ্গে কমিশনের এই ধরনের আচরণের নিন্দা করেছে শাসকদল তৃণমূল। তবে নবান্নের পুনর্বহালের পরেও বুধবার কয়েক জন অপসারিত আধিকারিককে ভিন্ রাজ্যে বদলির কথা জানায় কমিশন। সেই সিদ্ধান্তের আংশিক পরিবর্তন হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:০০
গণনাকর্মীদের মোবাইল নম্বর প্রকাশিত হলে কড়া পদক্ষেপ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন -
১৮:১৬
এ বার বর্ধমানে স্ট্রংরুম-বিতর্ক! সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ? কারচুপি সন্দেহে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল নেতৃত্ব -
১৭:৪৪
কোথায় কোন আসনের গণনা? রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভার গণনা কোন ৭৭ কেন্দ্রে? বিশদ তালিকা দিল নির্বাচন কমিশন -
১৬:৪৯
জয় নিয়ে প্রত্যয়ী শমীক! গণনার আগে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন, কেউ যেন হিংসায়, অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়েন -
১৫:৪৪
ভবানীপুরের কাউন্টিং এজেন্ট, কাউন্সিলরদের রবি-সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে ডাক মমতার! গণনার আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি