রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। বুধবারও পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনে রদবদল অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। একের পর এক আমলা এবং আইপিএস আধিকারিককে অপসারণ করা হয়েছে। বলে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে তাঁদের আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না। এমনকি, প্রশিক্ষণ ছাড়াই কিছু আধিকারিককে ভিন্রাজ্যের ভোটে পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বাতিল করা হয়েছে নবান্নের জারি করা তাঁদের পুনর্বহালের নির্দেশিকাও।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ রাজ্যের শাসকদল ভাল চোখে দেখছে না। অপসারিত আধিকারিকদের পরিবর্তে নতুন আধিকারিকদের নাম ঘোষণা করছে কমিশন। বলা হচ্ছে, তাঁরা ভোটের কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত থাকতেই পারবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এই ঢালাও পরিবর্তন বুধবারও অব্যাহত ছিল। পাঁচ ডিআইজি, দুই পুলিশ কমিশনার এবং একঝাঁক জেলাশাসককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি পদে নতুন আধিকারিকদের নাম জানিয়েছে বুধবার দুপুরে। বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে ১১টি জেলায়। বুধবার রাতে বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধর শর্মা এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজ়াকে তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁদের নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি অপসারিত ১৫ জন আইপিএস আধিকারিককেও কেরল এবং তামিলনাড়ুতে নিয়োগ করা হয়েছে পর্যবেক্ষকের কাজে।
গত রবিবার বিকেলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশন পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে। এ রাজ্যের ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। ভোটের সূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই কমিশনের রদবদল শুরু হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ছাড়াই ভিন্রাজ্যে!
বুধবার রাতে কমিশন একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেছে। বলা হয়েছে, অবিলম্বে তাঁদের কাজে যোগ দিতে হবে। এই ১৫ জনের তালিকায় রয়েছেন আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মুরলী ধর, মুকেশ, প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা, রশিদ মুনির খান এবং ওয়াকার রাজ়া। তবে বৃহস্পতিবার জানা যায়, আপাতত বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ভিন্রাজ্যে যেতে হচ্ছে না। সূত্রের খবর, অধিকাংশ আধিকারিকেরই নাম কমিশনের প্রশিক্ষণের তালিকায় ছিল না। অর্থাৎ, তাঁদের ভিন্রাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল না কমিশনের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কমিশন সূত্রে দাবি, প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। বুধবার দুপুরেই তাঁদের অন্যান্য পদে পুনর্বহাল করে নবান্ন। তবে নবান্নের পুনর্বহালের নির্দেশিকা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেন তড়িঘড়ি এই বদলি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাংশের অভিযোগ, যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাঁদের অনেককেই এখনও অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হয়নি। অথচ, যাঁরা প্রশিক্ষণ পাননি, তাঁদের অবিলম্বে কাজে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভোটের আগে কমিশন চাইলে প্রশাসনিক স্তরে যে কোনও রদবদলই করতে পারে। এটাও তাদের এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে।
পাঁচ ডিআইজি বদল
বুধবার একসঙ্গে রাজ্য পুলিশের পাঁচ জন ডিআইজি-কে অপসারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে ২০১৯ ব্যাচের আইপিএস রাঠৌর অমিতকুমার ভরতকে। এই দায়িত্বে ছিলেন নিম্বালকর সন্তোষ উত্তমরাও। মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি পদে আনা হয়েছে ২০১১ ব্যাচের আইপিএস অজিত সিংহ যাদবকে। এত দিন মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি পদে ছিলেন সুধীরকুমার নীলাকান্তম। দিন কয়েক আগেই রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি পদ থেকে বদলি করে নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁকে। এ বার কমিশন তাঁকে সরিয়ে দিল। জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি ভোলানাথ পাণ্ডেকে সরিয়ে আনা হয়েছে ২০০৯ ব্যাচের আইপিএস অঞ্জলি সিংহকে। বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি পদ থেকে অলোক রাজোরিয়াকে সরিয়ে ২০১১ ব্যাচের আইপিএস শ্রীহরি পাণ্ডেকে আনা হয়েছে। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি-কেও বদলে দিয়েছে কমিশন। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং তার আশপাশের অঞ্চল নিয়ে গঠিত। সেই রেঞ্জে নতুন ডিআইজি করা হল ২০০৭ ব্যাচের আইপিএস কঙ্করপ্রসাদ বারুইকে। এই রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।
আরও পড়ুন:
জেলাশাসক বদল
১১টি জেলার জেলাশাসককে অপসারণ করেছে কমিশন। বুধবার নির্দেশিকা জারি করে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারের নতুন জেলাশাসকের নাম জানানো হয়েছে। কোচবিহারে জিতেন যাদব, জলপাইগুড়িতে সন্দীপ ঘোষ, উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, মালদহে রাজনবীর সিংহ কপূর, মুর্শিদাবাদে আর অর্জুন, নদিয়ায় শ্রীকান্ত পাল্লি, পূর্ব বর্ধমানে শ্বেতা আগরওয়াল, উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্পা গৌরিসারিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অভিষেক কুমার তিওয়ারি, দার্জিলিঙে হরিচন্দ্র পানিকর এবং আলিপুরদুয়ারে টি বালাসুব্রহ্মণ্যমকে জেলাশাসক নিযুক্ত করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে যাঁরা জেলাশাসক পদে ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকে জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বও পালন করছিলেন। নবনিযুক্তদের দায়িত্ব নিতে হবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টের মধ্যে।
ডিইও বদল
কলকাতার দুই নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-কে বদল করেছে কমিশন। দিনকয়েক আগেই উত্তর কলকাতার ডিইও হিসাবে পুরসভার কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ডিইও হিসাবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসককে নিয়োগ করে কমিশন। তবে কলকাতার ক্ষেত্রে নিয়মটা আলাদা। কলকাতায় জেলাশাসক না-থাকায় কোনও দফতরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনও পদাধিকারীর উপর দায়িত্ব থাকত না। তবে কমিশন জানায়, এ বার থেকে পুরসভার কমিশনারই উত্তর কলকাতার ডিইও নিযুক্ত হবেন। বুধবার পুর কমিশনার অংশুল গুপ্তের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল স্মিতা পাণ্ডেকে। আর দক্ষিণ কলকাতায় নতুন ডিইও করা হয়েছে রণধীর কুমারকে। তাঁদেরও বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টের মধ্যে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
মুখ্যসচিব দিয়ে শুরু
ভোটঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দেয় কমিশন। বলা হয়, ভোটের কোনও কাজ তাঁরা করতে পারবেন না। পরিবর্তে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব করা হয় দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। স্বরাষ্ট্রসচিব পদে নিযুক্ত হন সংঘমিত্রা ঘোষ। ভোটের আগে পুলিশ ও প্রশাসনে রদবদল খুব বিরল না হলেও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো পদে পরিবর্তন সচরাচর দেখা যায় না। মধ্যরাতের এই অপসারণ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পরের দিন সংসদে তৃণমূলের তরফে কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। সেই সঙ্গে ধেয়ে আসে একের পর এক কটাক্ষবাণ। এর পর একে একে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সরানো হয়। ডিজিপি পদে পীযূষ পাণ্ডের পরিবর্তে আনা হয় সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। কলকাতার সিপি পদে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে আনা হয় অজয় নন্দকে। রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং ডিজি (কারা) পদেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে ছিলেন বিনীত গোয়েল। তাঁকে সরিয়ে নতুন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) করা হয়েছে অজয় মুকুন্দ রানাডেকে। ডিজি (কারা) পদে নিয়োগ করা হয়েছে নটরাজন রমেশ বাবুকে। পুলিশে আরও রদবদল হয়েছে। প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে অপসারিত অফিসারদের অন্যত্র নিয়োগ করেছে নবান্ন।
পুলিশে আরও বদল
মঙ্গলবার একধাক্কায় রাজ্যের ১২ জন পুলিশ সুপারকে বদল করে দেয় কমিশন। সরানো হয় কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও। এ ছাড়া চার পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার, এডিজি পদমর্যাদার দু’জন কর্তাকেও সরিয়েছে কমিশন। ইন্দিরার জায়গায় আনা হয়েছে ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথরাওকে। বীরভূম, ডায়মন্ড হারবার, পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর, বারাসত, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, হুগলি (গ্রামীণ), ইসলামপুর, বসিরহাটের পুলিশ সুপারকে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের নতুন দায়িত্ব দেয় নবান্ন। বুধবার রাতে বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধর শর্মা এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজ়াকে তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁদের নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
কাকে কোথায় পুনর্বহাল
ডিজিপি পদ থেকে সরানো পীযূষকে ডিজি (নিরাপত্তা অধিকর্তা) করা হয়েছে। কলকাতার সিপি সুপ্রতিমকে রাজ্যের এডিজি (সিআইডি) করা হয়েছে। কলকাতার এডিজি (আইবি) হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদ থেকে অপসারিত বিনীতকে রাজ্য আইবি-র ডিজি করা হয়েছে। এডিজি (সিআইডি) পদে থাকা লক্ষ্মীনারায়ণ মীনাকে এডিজি (কারা) হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। তাঁকে পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (সিআইডি) স্পেশ্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট (এসএস) পদে। এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) পদ থেকে অপসারিত রাজীব মিশ্রকে পাঠানো হয়েছে এডিজি (সংস্কার ও সমন্বয়) করে। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী। তাঁকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর আইজি করা হয়েছে। একই দায়িত্ব পেয়েছেন আসানসোল-দুর্গাপুরের অপসারিত পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধরিকে। আইজি (উত্তরবঙ্গ) পদ থেকে অপসারিত সুকেশকুমার জৈনকে রাজ্য পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) আইজি করা হয়েছে। আইবির ডিআইজি হচ্ছেন হাওড়ার অপসারিত পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া এবং চন্দননগরের অপসারিত পুলিশ কমিশনার কোটেশ্বর রাওকে। আইবির স্পেশ্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে নিয়োগ করা হয়েছে ছ’জন অপসারিত আধিকারিককে। সেই তালিকায় রয়েছেন ইসলামপুরের অপসারিত পুলিশ সুপার জোবি থমাস, মালদহের অপসারিত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমের অপসারিত পুলিশ সুপার আমনদীপ, হুগলি (গ্রামীণ)-এর অপসারিত পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অপসারিত সুপার ধৃতিমান সরকার এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অপসারিত সুপার হোসেন মেহেদি রহমান। পূর্ব মেদিনীপুরের অপসারিত পুলিশ সুপার পারিজাত বিশ্বাস, ডায়মন্ড হারবারের অপসারিত পুলিশ সুপার বিশপ সরকার, কোচবিহারের অপসারিত পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা, বসিরহাটের অপসারিত পুলিশ সুপার আরিশ বিলাল এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অপসারিত পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর পুলিশ সুপার করা হয়েছে। এ ছাড়া, বারাসতের অপসারিত পুলিশ সুপার প্রিয়ব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:৫৮
বিজেপি কম ব্যবধানে এগোলেই পুনর্গণনার দাবি! গণনাকেন্দ্রের অদূরে হোটেল ভাড়া করে রাত কাটাতে হবে প্রার্থীদের: মমতা -
১৯:২১
ইভিএম ‘পাহারায়’ তৎপরতা বিজেপিরও! রবিবার রাজ্যে সব স্ট্রংরুমের সামনে পদ্মশিবিরের মহিলা কর্মীরা বসছেন অবস্থানে -
১৬:৫২
‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার যাঁরা সয়েছেন, তাঁরা পুরস্কৃত হবেন’! বড় জয় নিয়ে প্রত্যয়ী মমতা ও অভিষেকের বার্তা দলীয় বৈঠকে -
১৫:৪০
আবার অশান্ত ফলতা! দফায় দফায় উত্তেজনা, পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেন গ্রামবাসীদের একাংশ, রিপোর্ট তলব কমিশনের -
১০:৩১
নিজেদের বিজ্ঞপ্তি মেনে কাজ করবে কমিশন! প্রয়োজন নেই অতিরিক্ত নির্দেশের, তৃণমূলের মামলায় বলে দিল সুপ্রিম কোর্ট