নির্বাচন কমিশন ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের যে সমস্ত আইপিএস আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের আবার অন্য দায়িত্বে পুনর্বহাল করেছিল রাজ্য। সেই পুনর্বহালও ‘বাতিল’ করে দিল কমিশন। বুধবার রাতেই নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানানো হল, ওই আধিকারিকদের মধ্যে ১৫ জনকে ভিন্রাজ্যে ভোটের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। অবিলম্বে নতুন দায়িত্বে তাঁদের যোগ দিতে হবে বলেও নির্দেশ।
কমিশনের সেই আইপিএস আধিকারিকদের তালিকায় রয়েছেন আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মুরলী ধর, মুকেশ, প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা, রশিদ মুনির খান এবং ওয়াকার রাজ়া। এঁদের মধ্যে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন মুরলী ধর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ছিলেন ওয়াকার রাজ়া। তাঁদের অপসারণ করা হয়েছে। প্রত্যেককেই পাঠানো হচ্ছে তামিলনাড়ু এবং কেরলের ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, পর্যবেক্ষক হিসাবে কমিশন যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল, এই সকল আধিকারিকের অধিকাংশের নাম ওই তালিকায় ছিল না। প্রশিক্ষণ ছাড়াই তড়িঘড়ি তাঁদের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে দাবি, প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে নবান্নের পুনর্বহালের নির্দেশিকা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেন তড়িঘড়ি এই বদলি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একাংশের অভিযোগ, যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাঁদের অনেককেই এখনও অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হয়নি। অথচ, যাঁরা প্রশিক্ষণ পাননি, তাঁদের অবিলম্বে কাজে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। বুধবার রাতের তালিকার অধিকাংশই দ্বিতীয় ক্ষেত্রের উদাহরণ। আর এক অংশ আবার বলছেন, ভোটের আগে কমিশন চাইলে প্রশাসনিক স্তরে যে কোনও রদবদলই করতে পারে। এ ক্ষেত্রেও তারা এক্তিয়ারের বাইরে কিছু করেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:৫৮
বিজেপি কম ব্যবধানে এগোলেই পুনর্গণনার দাবি! গণনাকেন্দ্রের অদূরে হোটেল ভাড়া করে রাত কাটাতে হবে প্রার্থীদের: মমতা -
১৯:২১
ইভিএম ‘পাহারায়’ তৎপরতা বিজেপিরও! রবিবার রাজ্যে সব স্ট্রংরুমের সামনে পদ্মশিবিরের মহিলা কর্মীরা বসছেন অবস্থানে -
১৬:৫২
‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার যাঁরা সয়েছেন, তাঁরা পুরস্কৃত হবেন’! বড় জয় নিয়ে প্রত্যয়ী মমতা ও অভিষেকের বার্তা দলীয় বৈঠকে -
১৫:৪০
আবার অশান্ত ফলতা! দফায় দফায় উত্তেজনা, পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেন গ্রামবাসীদের একাংশ, রিপোর্ট তলব কমিশনের -
১০:৩১
নিজেদের বিজ্ঞপ্তি মেনে কাজ করবে কমিশন! প্রয়োজন নেই অতিরিক্ত নির্দেশের, তৃণমূলের মামলায় বলে দিল সুপ্রিম কোর্ট