Advertisement
WBState_Assembly_Elections_Lead0_02-05-26

নবান্ন অভিযান

নবান্নের পুনর্বহালও বাতিল! প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা অনেক আইপিএস-কে ভিন্‌রাজ্যে পর্যবেক্ষক করল কমিশন

নির্বাচন কমিশন ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের যে সমস্ত আইপিএস আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের আবার অন্য দায়িত্বে পুনর্বহাল করেছিল রাজ্য। সেই পুনর্বহালও ‘বাতিল’ করে দিল কমিশন।  

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ২৩:২০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নির্বাচন কমিশন ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের যে সমস্ত আইপিএস আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের আবার অন্য দায়িত্বে পুনর্বহাল করেছিল রাজ্য। সেই পুনর্বহালও ‘বাতিল’ করে দিল কমিশন। বুধবার রাতেই নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানানো হল, ওই আধিকারিকদের মধ্যে ১৫ জনকে ভিন্‌রাজ্যে ভোটের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। অবিলম্বে নতুন দায়িত্বে তাঁদের যোগ দিতে হবে বলেও নির্দেশ।

কমিশনের সেই আইপিএস আধিকারিকদের তালিকায় রয়েছেন আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মুরলী ধর, মুকেশ, প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা, রশিদ মুনির খান এবং ওয়াকার রাজ়া। এঁদের মধ্যে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন মুরলী ধর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ছিলেন ওয়াকার রাজ়া। তাঁদের অপসারণ করা হয়েছে। প্রত্যেককেই পাঠানো হচ্ছে তামিলনাড়ু এবং কেরলের ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে।

উল্লেখ্য, পর্যবেক্ষক হিসাবে কমিশন যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল, এই সকল আধিকারিকের অধিকাংশের নাম ওই তালিকায় ছিল না। প্রশিক্ষণ ছাড়াই তড়িঘড়ি তাঁদের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে দাবি, প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে নবান্নের পুনর্বহালের নির্দেশিকা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেন তড়িঘড়ি এই বদলি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একাংশের অভিযোগ, যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাঁদের অনেককেই এখনও অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হয়নি। অথচ, যাঁরা প্রশিক্ষণ পাননি, তাঁদের অবিলম্বে কাজে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। বুধবার রাতের তালিকার অধিকাংশই দ্বিতীয় ক্ষেত্রের উদাহরণ। আর এক অংশ আবার বলছেন, ভোটের আগে কমিশন চাইলে প্রশাসনিক স্তরে যে কোনও রদবদলই করতে পারে। এ ক্ষেত্রেও তারা এক্তিয়ারের বাইরে কিছু করেনি।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
৯ ঘণ্টা আগে
Nabanna Election Commission IPS Officer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy