ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মূলধনী ব্যয়ের লক্ষ্য থেকে কেন্দ্র সরকার সরবে না বলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দাবি করলেন ব্যয়সচিব ভি ভুয়ালনাম। তাঁর বক্তব্য, এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ১২.২২ লক্ষ কোটি টাকা মূলধনী ব্যয়ের পথেই হাঁটবে কেন্দ্র।
ফেব্রুয়ারির বাজেটে এ বছরের জন্য ৪.৩% রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য বেঁধেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তবে জিডিপি হিসাবের ভিত্তিবর্ষ ও পদ্ধতি বদলের পরে তা ৪.৫% হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সেই সমস্ত অনুমানই ওলটপালট করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের একাংশের মতে, হরমুজ় বন্ধ থাকায় তেল-গ্যাস-সারের আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। পশ্চিম এশিয়া থেকে কম অর্থ আসছে। টাকার দামের টানা পতন বাড়াচ্ছ আমদানি খরচ। সমস্যা যুঝতে তেলে শুল্ক ছাঁটতে হয়েছে কেন্দ্রকে। আবার সরকারকে ভর্তুকি খাতে বেশি টাকা গুনতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে কোষাগারের উপরে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে হয়তো মূলধনী ব্যয়ে কাটছাঁট করতে হতে পারে।
যদিও ভুয়ালনামের দাবি, ‘‘আসন্ন কয়েকটি ত্রৈমাসিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। কিন্তু অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলিতে ব্যয় বহাল থাকবে।’’ এর মধ্যে রাখা হয়েছে জাতীয় সড়ক, রেল, নৌ-পরিবহণ, বন্দর এবং নগরোন্নয়ন ইত্যাদি। পাশাপাশি, আগামী দিনে কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতেই সরকার নজর দেবে বলে জানিয়ে তাঁর দাবি, বাদবাকি শিল্প ক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)