আমেরিকা-ইরানের মধ্যে শুক্রবার শান্তি চুক্তি হয়ে গেলে হরমুজ় প্রণালী হয়ে ভারতে তেল-গ্যাসের জোগান অনেকটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা মোদী সরকারের। যদিও পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক হতে এক বছরও লাগতে পারে বলে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের কর্তাদের আশঙ্কা। মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে সকলের জন্যই ভাল। তেল, গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক হবে।’’ তবে কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে তিনি মুখ খুলতে চাননি।
আমেরিকা, ইরান শুক্রবার শান্তি চুক্তি করবে বলে ঘোষণা করেছে। সে ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, শান্তি চুক্তি ঘোষণার পরেই এলএনজি নিয়ে ভারতীয় জাহাজ দিশা হরমুজ় পেরিয়ে এসেছে। জাহাজ মন্ত্রকের অধিকর্তা অপেশ কুমার শর্মার বক্তব্য, হরমুজ় খুললেই আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলিকে ফিরিয়ে আনা হবে।
পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, শান্তিচুক্তি হলে হরমুজ়ে আটকে থাকা জাহাজ বেরিয়ে আসতে পারলেও জ্বালানির জোগান যে পুরো স্বাভাবিক হবে, তা নয়। তিন মাসের যুদ্ধে বহু তেল-গ্যাসের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ১ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন পরিকাঠামো বন্ধ রয়েছে। অশোধিত তেলের দাম থিতু হতে ছ’মাস লেগে যেতে পারে। মন্ত্রকের দাবি, এখনও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে কম দামে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে। সুজাতার বক্তব্য, ‘‘এলপিজি-তে সিলিন্ডার প্রতি ৭০০ টাকা, পেট্রলে লিটার প্রতি ৩ টাকা, ডিজ়েলে লিটার প্রতি ২৭ টাকা কম আয় হচ্ছে।’’
মোদী সরকার বিধানসভা ভোট পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে পেট্রল, ডিজ়েল, এলপিজি-র দাম বাড়াতে দেয়নি। ভোটের পরেই পেট্রল, ডিজ়েলে লিটার প্রতি অন্তত সাড়ে সাত টাকা, সিএনজি-তে প্রতি কেজি ৬ টাকা ও গৃহস্থের এলপিজি-র দাম ৮৯ টাকা বেড়েছে। তবে জ্বালানির দাম ও জোগান স্বাভাবিক হলে তা আবার কমানো হবে কি না, তা নিয়ে মন্ত্রক এখনই কোনও আশ্বাস দিতে নারাজ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)