মালদহের ঘটনা নিয়ে এ বার রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের কাছে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও।
ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। কলকাতা-শিলিগুড়ি (১২ নম্বর) জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় জনতা। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন ওই ব্লক অফিসের ভিতরে ছিলেন এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। ব্লক অফিসে তাঁদের ঘেরাও করে রাখা হয়। বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন:
বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলের একটি গাড়ির ভিতরের দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির আসনে কাচ ভেঙে পড়ে রয়েছে। আন্দোলনকারীদের পাল্টা অভিযোগ, ঘেরাও হয়ে থাকা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তার পর বিচারকদের নিয়ে কনভয় যখন যাচ্ছিল, তখন একটি গাড়ি এক জন আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারে বলে বলে অভিযোগ। আহত ব্যক্তি এখন চিকিৎসাধীন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের মধ্যে অনেকের কাছে বৈথ নথিপত্র থাকার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। সেই অভিযোগ তুলেই বুধবার মালদহের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সকালে অবশ্য জেলার প্রায় সর্বত্রই অবরোধ-বিক্ষোভ তুলে দিয়েছে পুলিশ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ পিকেট বসেছে। টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে ভোটার তালিকায় নাম না-তোলা হলে ফের বিক্ষোভ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এই আবহে মালদহের ঘটনা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে রিপোর্ট তলব করল কমিশন।