হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। দিনকয়েক আগে নদিয়ার রানাঘাটের স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে পদক্ষেপ করা হল। এই ঘটনায় আগেই সায়ন্তনকে শো কজ় করেছিল কমিশন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, হাঁসখালিতে ভোট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করার সামগ্রিক দায়িত্ব ছিল বিডিও-র। তবে তিনি তাঁর নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটোকল বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিডিও সায়ন্তনের এই গাফিলতি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির কমিশনের চেষ্টাকে ব্যর্থ করেছে। সেই সব বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ।
চলতি মাসের ২৭ তারিখ রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ় স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ করেন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক। ওই ভোটকর্মীর দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর হামলা হয় বিডিও-র নেতৃত্বেই। সৈকতের কয়েক জন সহকর্মীও অভিযোগ করেন, ভোটের প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এবং দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত ভিডিয়ো প্রদর্শন করা হয়। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সৈকত। তার পরেই মারধরের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন:
বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়। বিতর্কের মধ্যে সাফাই দেন সায়ন্তনও। তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গন্ডগোলের কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ মানতে চাননি। ঘটনা নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই সায়ন্তনকে শো কজ় করে কমিশন। বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে, কেন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রাজ্য সরকারের প্রকল্প দেখানো হল? এ প্রসঙ্গে নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লি জানান, ভুলবশত মুখ্যমন্ত্রীর ছবি প্রজেক্টরে ভেসে উঠেছিল। তবে তা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গও বলেও জানিয়েছিলেন শ্রীকান্ত। ওই ঘটনায় কমিশনকে রিপোর্টও পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দুই কর্মীর নামে এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছিল। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্ত।
সায়ন্তনের সাসপেন্ডের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘প্রহৃত’ ভোটকর্মী সৈকত। তিনি বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের পক্ষে কমিশনের ভূমিকার ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পক্ষে থাকা এক শ্রেণির আমলাদের জন্যেও একপ্রকার হলুদ কার্ড হয়ে থাকল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৭:১৭
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ -
১৩:৫৯
মোদীর বেঁধে দেওয়া সেই ধ্বনি উদ্যাপন করতে নতুন স্লোগান বাঁধল বিজেপি! নতুন গানে দিল প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আশ্বাসও -
০০:৩১
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ -
২৩:১৭
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের -
২১:৫৫
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত