Advertisement
E-Paper

‘বদলি চাকরিজীবনেরই অঙ্গ’! কমিশনের প্রশাসনিক অপসারণ নিয়ে তৃণমূলের মামলা খারিজ, কী কী পর্যবেক্ষণ হাই কোর্টের

রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তাকে বদলি করেছে কমিশন। তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলা খারিজ করে কী কী পর্যবেক্ষণ ডিভিশন বেঞ্চের?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৬:২২
Calcutta High Court

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটের মুখে রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে পুলিশকর্তা, বিডিও থেকে ওসি, পুলিশ এবং প্রশাসনে ঢালাও রদবদলের প্রতিবাদে শাসকদল তৃণমূলের মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার আদালত জানাল, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করছে। মামলা খারিজের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চের।

১) আধিকারিক বা সরকারি কর্মীদের অল্প সময়ের জন্য পূর্ব দায়িত্ব বা কর্মস্থল থেকে সরানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উপর কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে, তারা প্রতিটি বদলির কারণ ব্যাখ্যা করবে। তাই এই ধরনের বদলি বা অপসারণকে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রেক্ষিতেই বুঝতে হবে।

২) অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টও মত দিয়েছিল যে, নির্বাচনের সময় অফিসারদের ‘ট্রান্সফার’ করতে গেলে কমিশন কারণ দর্শাতে বাধ্য নয়।

৩) এলাহাবাদ হাই কোর্ট রায়ে বলেছে— সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আধিকারিকদের বদলিও সেই ক্ষমতার মধ্যে পড়ে।

৪) মামলাকারী এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত বিভিন্ন আইনি যুক্তি দিয়েছিলেন। গত ২৩ মার্চ এই মামলার পূর্ববর্তী শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও আধিকারিকদের অপসারণ প্রসঙ্গে কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়েও। কিন্তু তাঁরা কোথাও বলেননি কমিশনের রদবদলের ক্ষমতা নেই। এজি জানান, তাঁদের বক্তব্য, কমিশন ইচ্ছামতো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। তবে আদালত মনে করছে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা আছে।

৫) হাই কোর্ট বলছে, অনেক আধিকারিকের বদলি হয়েছে মানেই তাতে কমিশনের ‘খারাপ উদ্দেশ্য’ রয়েছে এটা বলা যাবে না। সারা দেশেই ভোটের সময় একই ভাবে কমবেশি বদলি করা হয়েছে।

৬) আদালত বলছে, আধিকারিকদের বদলি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তাতে সাধারণত তারা হস্তক্ষেপ করে না। যদি কমিশন ক্ষমতার বাইরে গিয়ে স্পষ্ট ভাবে বেআইনি কোনও কাজ করে তবেই হস্তক্ষেপ করা যেত।

৭) চাকরির একটি স্বাভাবিক অঙ্গ বদলি। তবে যদি কোনও আধিকারিক এতে অসন্তুষ্ট হন, তিনি আলাদা মামলা দায়ের করে নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

৮) যে বদলি সরাসরি জনস্বার্থে ক্ষতি করেনি, সেগুলি নিয়ে জনস্বার্থ মামলার বিচার করা যায় না।

৯) কোনও জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার জন্য জনসাধারণের উপর প্রভাব পড়েছে, তা প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এখানে মামলাকারী প্রমাণ করতে পারেননি যে, এই সমস্ত বদলির ফলে প্রশাসন ভেঙে পড়ছে এবং মানুষ কোন কোন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

১০) বদলির নেপথ্যে মামলাকারী রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি মামলাকারীরা। এমনকি, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের মামলায় যুক্ত করা হয়নি। তাই আদালত এই সব অভিযোগ গ্রহণ করছে না।

১১) কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কোথাও এটা প্রমাণ করা যায়নি যে, সেই ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে এবং জনস্বার্থে কোনও ক্ষতি হয়েছে।

১২) মামলা খারিজ হলেও মামলাকারীদের কোনও জরিমানা করা হচ্ছে না। কিন্তু এই রায়ের কারণে কোনও অফিসার যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তিনি আলাদা করে নিজের বদলি চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

Calcutta High Court Election Commission PIL TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy