Advertisement

নবান্ন অভিযান

রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের পিতৃবিয়োগ, ভোটের আগে শোকাচ্ছন্ন এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট

বিধানসভা ভোটের মুখে গত মাসের শেষের দিকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন স্বপ্না। কলকাতার তৃণমূল ভবনে তাঁর হাতে দলের পতাকা তুলে দেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১২:৩৯
রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ।

রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ। —ফাইল চিত্র।

জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের পিতৃবিয়োগ। স্বপ্নার বাবা পঞ্চানন বর্মণ গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বপ্না দ্রুত আরোগ্যকামনায় পুজোও দিয়েছিলেন। শনিবার ভোরে পঞ্চাননের মৃত্যু হয়। ভোটের আগে বাবাকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট।

বিধানসভা ভোটের মুখে গত মাসের শেষের দিকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন স্বপ্না। কলকাতার তৃণমূল ভবনে তাঁর হাতে দলের পতাকা তুলে দেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার পর গত মঙ্গলবার তৃণমূল রাজ্যের ২৯১টি বিধানসভা আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। রাজগঞ্জ থেকে স্বপ্নাকে টিকিট দেয় শাসকদল। তিনি প্রচারও শুরু করেছিলেন। কিন্তু বাবার অসুস্থতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্বপ্না। শেষরক্ষা হল না।

২০১৮ সালের এশিয়াডে সোনা জিতেছিলেন স্বপ্না। তবে চোটের কারণে তার পর খেলা ছেড়ে দেন। বর্তমানে রেলে চাকরি করেন। স্বপ্না রাজবংশী সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় তাঁকে টিকিট দিয়ে ওই ভোটব্যাঙ্ক টানার অঙ্ক কষেছে তৃণমূল। স্বপ্নাও তৃণমূলে যোগ দিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে এই দলকে বেছে নিয়েছেন। তবে স্বপ্নাকে টিকিট দেওয়ায় জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের একাংশে ক্ষোভ রয়েছে। সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় প্রার্থিতালিকা ঘোষণা হতেই দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁদের কেন্দ্র রাজগঞ্জে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের মুখে পিতৃবিয়োগে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত ক্রীড়াবিদ।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Swapna Barman Rajganj Jalpaiguri
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy