Advertisement
E-Paper

ফেস্টুন-পতাকা নিয়ে নালিশ চলছেই

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, পতাকা এবং ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে দুই জেলাতেই বেড়ে চলেছে চাপান-উতোর। পাত্রসায়রের নলডাঙায় অভিযোগের তালিকায় এ বার যোগ হয়েছে হুমকি। গত সোমবার পাত্রসায়র থানার বিউর-বেতুড় পঞ্চায়েতের নলডাঙা এলাকায় সিপিএমের পতাকা ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল শাসকদলের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৬ ০১:৪৪
এই প্ল্যাকার্ডটি বিকৃত করা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। —নিজস্ব চিত্র

এই প্ল্যাকার্ডটি বিকৃত করা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। —নিজস্ব চিত্র

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, পতাকা এবং ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে দুই জেলাতেই বেড়ে চলেছে চাপান-উতোর। পাত্রসায়রের নলডাঙায় অভিযোগের তালিকায় এ বার যোগ হয়েছে হুমকি। গত সোমবার পাত্রসায়র থানার বিউর-বেতুড় পঞ্চায়েতের নলডাঙা এলাকায় সিপিএমের পতাকা ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল শাসকদলের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার সিপিএম কর্মীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলও একই অভিযোগ আনে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার পতাকা টাঙানোর জন্য তাঁদের নেতা কর্মীদের তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়েছে বলে ফের অভিযোগ এনেছে সিপিএম। দলের পাত্রসায়র জোনাল কমিটির আহ্বায়ক তথা জেলা কমিটির সদস্য লালমোহন গোস্বামীর অভিযোগ, “ওই এলাকায় তৃণমূলকর্মীরা বারে বারে আমাদের পতাকা এবং ফেস্টুন খুলে দিয়েছেন। রবিবার লোকাল কমিটির সদস্য মোজ্জাফর মণ্ডলের নেতৃত্বে দলের কর্মীরা ফের পতাকা টাঙিয়েছিলেন। তার পরই মোজ্জাফর-সহ কয়েক জন কর্মীকে ভোটের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তৃণমূলের গুণ্ডারা।” তাঁর দাবি, এলাকায় তাঁদের সংগঠন বাড়তে দেখে ভয় পেয়েছে তৃণমূল। তাই পতাকা ছেঁড়া থেকে শুরু করে হুমকি দিতেও পিছপা হচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ এবং কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্দাস বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী গুরুপদ মেটে বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে বিশ্বাসী। এলাকার মানুষ তাঁদের সঙ্গে নেই বুঝতে পেরে ভোটের আগে প্রচারের আলোয় আসতে সিপিএম মিথ্যা অভিযোগ করছে।” জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, লিখিত কোনও অভিযোগ এখনও জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে তৃণমূলের নির্বাচনী প্ল্যাকার্ড নষ্ট করার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ালো পুঞ্চায়। সোমবার সকালে পুঞ্চা থানার পায়রাচালি বাজারে তৃণমূলের একটি প্ল্যাকার্ড নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বাজারের সামনে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। বেশ কিছু সময় পরে বিডিও (মানবাজার ১)-র হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে।

পায়রাচালি বাজারের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডুর ছবি দেওয়া ওই প্ল্যাকার্ডটি ছিল। এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, তৃণমূলের কর্মী সমর্থকেরা পায়রাচালি বাঁকুড়া রাস্তা অবরোধ করেছেন। দু’ পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে ছোট বড় অনেক গাড়ি। প্ল্যাকার্ডটি যথাস্থানেই পড়ে রয়েছে। তাতে দলনেত্রী এবং প্রার্থীর মুখ ধারালো কোনও অস্ত্র দিয়ে কেটে নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ওই ছবি দু’টির মুখের অংশ ধারালো কেটে দিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাণা মুখোপাধ্যায় জানান, সোমবার সকালে এক কর্মী তাঁকে ফোন করে খবরটি দেন। তবে এই ঘটনায় সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম করে অভিযোগ আনেনি তৃণমূল। মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা ওই কেন্দ্রে এ বারের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, ‘‘আমাদের ধারণা বিরোধী রাজনৈতিক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনায় জড়িত। এই ধরণের কাজ অত্যন্ত নিচু মনের পরিচয়। রাজনীতির লড়াই হোক শিষ্টাচার মেনে।’’

নাম না করা হলেও অভিযোগের আঙুল সিপিএমের দিকেই বলে মনে করছেন দলের নিচু তলার কর্মীরা। অবশ্য সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা মানবাজারের বাসিন্দা প্রদীপ চৌধুরীর দাবি, অভিযোগটি মিথ্যা। তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি এবং অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে তৃণমূল নেতারা এলাকায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। তাই সহানুভূতি কুড়নোর জন্য নাটক করেছেন।’’ তাঁর দাবি, তদন্ত হলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এ দিন বিডিও (মানবাজার ১) সত্যজিৎ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। লিখিত অভিযোগ পেলে এফআইআর করার নির্দেশ দেবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন। তার পর প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে চলা অবরোধ ওঠে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অবরোধের জেরে নাজেহাল হন সাধারণ মানুষ। রাণাবাবুর অবশ্য দাবি, ‘‘সাধারণ মানুষকে হয়রান করার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং দলের কর্মী সমর্থকরা এই কাণ্ড দেখে জমায়েত হন। তাতেই রাস্তা আটকে গিয়েছিল।’’

assembly election 2016 distorted Festoons
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy