পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই প্রশ্ন উঠছে, ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষাধিক ভোটারের তথ্য যাচাই করে নিষ্পত্তি করতে আর কত দিন সময় পাবেন বিচারকেরা? ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হল। কমিশন সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট কেন্দ্রের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম উঠবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর-এর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টি বিবেচনা করছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। তাঁদের এই কাজে নিযুক্ত করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশায় নিযুক্ত বিচারকদেরও এ কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৭০০ জন বিচারক ‘বিবেচনাধীন’ তালিকার নিষ্পত্তির কাজ করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন যে আংশিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় নাম রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের। এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, ১০ লক্ষের কিছু বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই এবং নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই তথ্য সুপ্রিম কোর্টকে দিয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। শনিবার পর্যন্ত খবর, আরও প্রায় ৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৪২ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি করতে বিচারকেরা কত সময় পাবেন?
কমিশন জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফায় যাঁরা প্রার্থী হবেন, তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল। আর দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল। কমিশন সূত্রে খবর, প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নিষ্পত্তির তালিকায় যাঁরা যোগ্য বলে গণ্য হবেন, তাঁরা সকলেই ভোট দিতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রথম দফার ভোটারদের নাম নিষ্পত্তির জন্য বিচারকেরা সময় পাবেন ২১ দিন (সোমবার থেকে ধরলে)। আর দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে সময় পাবেন আরও তিন দিন। এ প্রসঙ্গে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘‘বিচারকেরা এগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে সব হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলব না।’’
আরও পড়ুন:
কমিশন সূত্রে খবর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো কিছু জেলায় ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকাও তৈরি করে দেওয়া যাবে। তবে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহে এখনও অনেকটা কাজ বাকি। কমিশন সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহে একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তবে তা পুরোটাই নির্ভর করছে আদালতের নির্দেশের উপর।
এসআইআর শুনানিতে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আর্জি জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বিবেচনা করতে বলেছিল। আদালত জানিয়েছিল, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আবেদন করা যাবে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। তিনি বিবেচনা করে কমিশনকে নির্দেশ দেবেন। সেই নির্দেশমতো পদক্ষেপ করবে কমিশন।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায়। এ ছাড়াও ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদে প্রথম দফায় নির্বাচন। দুই মেদিনীপুরেও প্রথম দফায় ভোট। আবার দুই বর্ধমানে দুই দফায় নির্বাচন। প্রথম দফায় পশ্চিম বর্ধমানে নির্বাচন। আর দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান জেলায়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা