পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেন। শনিবার থেকেই প্রচার শুরু করে দেবেন তাঁরা। মূলত, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে আদিবাসী অধ্যুষিত চার জেলায় হেমন্ত প্রচার করবেন। এর মাধ্যমে পশ্চিমের জেলাগুলিতে বিজেপিবিরোধী প্রচারে জোয়ার আনার পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূল সূত্রে খবর, শনিবার বাঁকু়ড়া দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে পারেন হেমন্তরা। এ ছাড়াও তাঁরা যাবেন পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার শীর্ষনেতৃত্ব তৃণমূলের সমর্থনে ভোট চাইবেন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে।
আরও পড়ুন:
কেন হেমন্তকে রাজ্যে আনছে তৃণমূল? পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের একটা বড় অংশের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের নাড়ির যোগাযোগ। ঘটনাচক্রে, গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি তৃণমূল। যদিও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে যতটা ধাক্কা তৃণমূলকে খেতে হয়েছিল, তা তারা ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে। দু’বছর আগের লোকসভা ভোটেও ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুর আসন বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল।
তবে শাসকদলের অনেকের বক্তব্য, পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় স্তরের নেতাদের সম্পর্কে স্থিতাবস্থা বিরোধিতা রয়েছে। তাঁদের ধারণা, সেই কারণেই পশ্চিমাঞ্চলে একগুচ্ছ বিধানসভা আসনে এ বার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দল। কোথাও জয়ী বিধায়ককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও বিদায়ী বিধায়ক টিকিটই পাননি! রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার আসনও বদলে দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম বিধানসভা থেকে তাঁকে পাঠানো হয়েছে বিনপুরে। হেমন্তদের এনে এই আদিবাসী অংশে বিজেপিবিরোধী প্রচারে জোর দিচ্ছে চাইছে তৃণমূল।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্কের কথা অনেকেই জানেন। গত জানুয়ারিতে বীরভূম সফরের জন্য হেলিকপ্টার ও়ড়ানোর অনুমতি পাননি অভিষেক। হেমন্তের কাছ থেকে কপ্টার নিয়ে বীরভূমে গিয়েছিলেন তিনি। এ বার সেই হেমন্তই পশ্চিমবঙ্গে আসছেন অভিষেকের দলের হয়ে প্রচার করতে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত