ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গেও কি বোঝাপড়া রয়েছে কমিশনের? সোমবার ফের তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের সঙ্গেও কমিশনের কোনও আঁতাঁত রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ‘আঁতাঁত’ রয়েছে বলে ধারাবাহিক ভাবে অভিযোগ তুলে আসছেন মমতা। এ বার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র দুই শরিক— ডিএমকে এবং কংগ্রেসের সঙ্গেও কমিশনের ‘বোঝাপড়া’ রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করলেন তিনি। সরাসরি ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিনের নামোল্লেখ করেই সেই সন্দেহের কথা জানালেন তৃণমূলনেত্রী।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে আইএএস এবং আইপিএসদের সরিয়ে অন্য রাজ্যে বদলির শুরু থেকে বিরোধিতা করে আসছেন মমতা। কোন উদ্দেশ্যে কমিশন রাজ্যের আধিকারিকদের ঢালাও অপসারণ করছে, তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। সোমবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ার সভা থেকেও তা নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, রাজ্যের সব আধিকারিককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “সকলকে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এত ভাব তামিলনাড়ুর সাথে! ভিতরে ভিতরে নিশ্চয়ই বোঝাপড়া আছে কংগ্রেস আর স্ট্যালিনের সঙ্গে।”
বিজেপিবিরোধী শিবিরে মমতা এবং স্ট্যালিনের মধ্যে সম্পর্ক দৃশ্যত ভালই। অতীতে বিভিন্ন বিষয়ে মমতা এবং স্ট্যালিন উভয়েই একে অন্যের সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাম্প্রতিক অতীতে অনেকে এই দু’জনের নামই প্রস্তাব করেছেন। এ বার সেই স্ট্যালিনের সঙ্গেই কমিশনের ‘গোপন অভিসন্ধি’ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন মমতা। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তামিলনাড়ু নিয়ে এই ‘সন্দেহ’ রবিবার মমতার মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জের সভাতেও উঠে এসেছিল। তবে সেখানে সরাসরি স্ট্যালিনের নাম করেননি। কমিশনকে তোপ দাগার সময়ে বলেছিলেন, “তামিলনাড়ুতে কিসের আন্ডারস্ট্যান্ডিং! পশ্চিমবঙ্গের সব অফিসারকে নির্বাচনের সময় এখানে না রেখে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিয়েছ। আর দেখে দেখে বিজেপির আত্মীয়দের, বিজেপির পরিবারকে এখানে সব ডেপুট করেছ।” ওই মন্তব্যের পর এ বার নদিয়ার সভা থেকে তামিলনাড়ু নিয়ে ওই ‘সন্দেহ-তত্ত্ব’ স্পষ্ট করলেন তৃণমূলনেত্রী। উল্লেখ করলেন ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিনের নাম। কংগ্রেসকে নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করলেন।
এ প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারের অপসারণের প্রসঙ্গও টানেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “সুপ্রতিম সরকার, যাঁর দুটো স্প্যাস্টিক ছেলে আছে, তাঁকে আপনারা তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিলেন! লজ্জা করে না? আম আর আমড়া বাছছেন? পশ্চিমবঙ্গের সব অফিসারকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। সব পাঠিয়ে দিয়েছেন তামিলনাড়ুতে।”
পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোট রয়েছে। কিন্তু শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই আধিকারিকদের এমন ঢালাও অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি মমতার। নাকাশিপাড়ার সভা থেকে তিনি জানান, ৫১০ জন আধিকারিককে পর্যবেক্ষক হিসাবে সরানো হয়েছে। তার মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই প্রায় ৫০০ আইএএস-আইপিএস আধিকারিককে সরানো হয়েছে। বাকি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে মাত্র ১০ জনকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ মমতার।
কমিশনকে বিঁধে মমতা বলেন, “৫১০ জন অফিসারকে পর্যবেক্ষক হিসাবে সরানো হয়েছে। পাঁচটা রাজ্যে ভোট হচ্ছে। কেরল সিপিএমের, তামিলনাড়ু কংগ্রেস আর স্ট্যালিনের, পুদুচেরি বিজেপির, অসম বিজেপির। শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫০০-র বেশি আইএএস আইপিএস-কে নিয়ে গিয়েছেন। বাদবাকি মাত্র ১০ জন চারটে রাজ্যের। আর আমাদের এখানে সবাইকে! কী ভাবছেন! মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ থেকে বহিরাগতেরা এসে ভোট করবে!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত