মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘এরা প্ল্যান করেছে, সকাল থেকে ছড়িয়ে দেবে ‘বিজেপি জিতছে, বিজেপি জিতছে’। আসলে নিজেদের জায়গাগুলোয় আগে কাউন্ট করবে। কিচ্ছু ভাববেন না। আমি মানুষের চোখমুখ যদি বুঝে থাকি, এ বার আরও বেশি সিট পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করবে। এটা মানুষের বাঁচার প্রশ্ন। বাংলায় থাকার প্রশ্ন। সন্তান-সন্ততির প্রশ্ন।’’
‘‘আপনাদের কাউকে বাংলা থেকে উচ্ছেদ হতে দেব না। আমরা লড়ে ২৫ লক্ষ নাম তো ঢোকাতে পেরেছি ভোটার তালিকায়। আরও পারব। কেউ আত্মহত্যা করবেন না।’’
‘‘ধর্ম আমাদের শেখাতে এসো না। তপোবনে আগেই আমাদের ঋষিরা শিখিয়ে গিয়েছেন ধর্ম কী। রাধাকৃষ্ণের রাসলীলা আমাদের ধর্ম, চৈতন্যদেবের শান্তির গান আমাদের ধর্ম। শান্তি নষ্টের চেষ্টা করলে বাঙালিরা ক্ষমা করবে না।’’
‘‘এই বিজেপিকে ভোট দেবেন? আপনার খাবার কাড়বে। আপনার পোশাক কাড়বে। আপনার ভোটাধিকার কাড়বে। ওরা একা থাকবে নিজেদের মতো ধর্ম তৈরি করে।’’
‘‘আরও স্কুল তৈরি করবে আমার সরকার। ওরা মানুষ হোক। আরও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি করব। প্রাইভেট স্কুলে অনেক খরচ। অনেক হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। আরও হবে।’’
‘‘২০২৬ সালে নিজেরাই ক্ষমতায় থাকবে না, আমাদের ভয় দেখাচ্ছে কী! আমার তো একটাই ঠিকানা, বাংলা। তাঁরা ঠিক করে নিন কোথায় থাকবেন। আমি এটা বলছি না, তাঁর অ্যাডড্রেস কেড়ে নেব।’’
‘‘বিনা পয়সায় খাদ্য পাবেন। কন্যাশ্রী পান, ঐক্যশ্রী পান, মেধাশ্রী পান... সব প্রকল্প হয়েছে। এ বার শুধু বাকি আছে... ১০৫টা স্কিম তো চলবেই।’’
‘‘আগের বার ইলেকশনের আগে বলেছিলাম, লক্ষ্মীর ভান্ডার করব। হয়েছে তো? আমি যদি ভোটের আগে এ সব বলতাম, বিশ্বাস করতেন না। আগেই সকলকে দিয়েছি। লক্ষ্মীর ভান্ডার সকলে (মহিলারা) সারাজীবন পাবেন। বিজেপি বলছে, তিন হাজার দেব। তোমরা তো বুলডোজ়ার দেবে!’’
‘‘আমাকে তো মারবার কত চেষ্টা করছে। কিন্তু ওই কথায় আছে, ‘রাখে হরি মারে কে’। তাই ভয় পাব কেন? জন্মেছি বীরের মতো, মরবও বীরের মতো।’’
বিজেপির দেওয়া ‘চার্জশিট’ প্রসঙ্গে মমতা সভা থেকে বলেন, ‘‘আজ সাধু সেজেছ? তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট? ডাকাতের দল। অনেক টাকা কামিয়েছে।’’
‘‘বদলা মানে খুন, দাঙ্গা নয়, বদলা মানে গণতান্ত্রিক ভাবে জবাব। বিজেপি এক টাকা দিতে এলে নেবেন না। সতর্ক করে দিই। আমাদের নাম করেও কেউ ব্যাঙ্কের তথ্য চাইলে দেবেন। ‘টাকা পাঠাব’ বলে অ্যাকাউন্ট নম্বর নেবে। তার পর কার না কার কালোটাকা পাঠাবে। তার পর ইডি-সিবিআই পাঠিয়ে দেবে।’’
‘‘বাচ্চাছেলে দুষ্টুমি করলে থাপ্পড় দেন। একটু করেন। কিন্তু এই শয়তানগুলো বাংলাভাগ করতে এলে কী করবেন? গণতন্ত্রের থাপ্পড় দেবেন। তবেই এরা জব্দ হবে।
মমতার নিশানায় পদ্মশিবির। শান্তিপুরে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি ভাবে হিন্দুধর্ম ওদের কেনা। কত বছর আগে চৈতন্যদেব এসেছিলেন। স্বাধীনতার সময়ে কোথায় ছিলে? তখন তো ইংরেজদের দালালি করেছিলে।’’
‘‘আমি শান্তিপুরে মিটিংয়ে এসেছি শুনে, অভিষেকের মা বলেছে, ‘আমার জন্য দুটো শাড়ি এনো’। আমি কি এখন বাজারে যাব নাকি! মিটিংয়ে এসেছি। আসলে ও জানে। মজা করছে। এটুকু তো ‘এক্সপেক্ট’ করতেই পারে বাড়ির বৌ। সোনাদানা চায় না। হার চায় না, দুল চায় না। নববর্ষের আগে দুটো শাড়ি চাইলে সেটা দেব না? এর জন্য কারও উপর নির্ভর করার দরকার নেই।’’
‘‘আমি যে শাড়িটা আজ পরে এসেছি, এটা শান্তিপুরের। আমি নিজের ডিজ়াইন করা শাড়ি পরি। অনেকে নকলও করে। আমার বেশ ভাল লাগে। শান্তিপুরের শাড়ি, বসাকদের শাড়ি... বাপরে কী বিখ্যাত। পুজো এলে টের পাই।’’
‘‘ভোট দিতে বাধা দিতে পারে... বার বার বলে যাচ্ছি। আপনারা সাবধান থাকবেন।’’ শান্তিপুরে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মূক-বধির কন্যার ধর্ষকদের শাস্তির দাবি তুলেছিলেন তিনি। আঙুল তৎকালীন শাসকদলের এক কর্মীর দিকে। প্রায় তিন দশক আগে তাঁর অভিযোগ ঘিরে তপ্ত হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। বিচারের দাবিতে মা-মেয়েকে নিয়ে মহাকরণ অভিযান করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মা ফেলানি বসাকের মৃত্যু হয়েছে কিছু দিন আগে। নদিয়ার শান্তিপুরে সেই ঘটনার স্মৃতি রোমন্থন করলেন মমতা।
‘‘নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তা বলেন, ‘‘আমি কেন শান্তিপুরে এলাম জানেন? আমার এখানে মিটিং ছিল না। অন্য জায়গায় ছিল। আজ ১৫ দিন বাইরে। হোটেলে থাকতে হয়। কিন্তু হোটেলের খাবার খাই না। ওই চিঁড়ে-মুড়ি, কোনও দিন একটা ডিমসিদ্ধ— এই সব খেয়েই দিন চলে যাচ্ছে। চা বেশি খাই না। তবে সকালের চা-টা জমিয়ে খাই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘১৯৯০ সালে মার খাওয়ার পরে রান্নায় একফোঁটা ঝাল থাকলে খেতে পারি না, ঘুমোতে পারি না ঠিক করে।’’
এ বার ব্রজকিশোর গোস্বামীকে শান্তিপুর বিধানসভা থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর সমর্থনে শান্তিপুর স্টেডিয়ামে সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ এবং নাকাশিপাড়ার তিন তৃণমূল প্রার্থী রুকবানুর রহমান, আলিফা আহমেদ এবং কল্লোল খাঁয়ের সমর্থনে বেথুয়াডহরির স্কুলমাঠে সভা করেছেন তৃণমূলনেত্রী। আবার পূর্বস্থলীর সভা থেকে এআই ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিজেপির নেতারা দিল্লিতে বসে এআই ব্যবহার করে সকলের নাম কেটেছে। এর বদলা হবে কি হবে না?”
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy