নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আবার ‘বহিরাগত-অস্ত্রে’ শান দিলেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহের মোথাবাড়িতে সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভের নেপথ্যে বহিরাগতদের যোগ দেখছেন তিনি। মালদহে দাঁড়িয়ে নাম না-করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-কে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘‘হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বিজেপির কোকিল। তার সঙ্গে কিছু সাম্প্রদায়িক লোকজন। মালদহে তারাই এ সব করছে।’’ মালদহের ঘটনার তদন্তের কৃতিত্ব রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি-কে দিলেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর দাবি, মালদহে যিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁকে বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি-ই! উল্লেখ্য, এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ।
শুক্রবার মমতার তিনটি জনসভা ছিল। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থেকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ হয়ে মালদহে শেষ সভা করেন তিনি। প্রত্যেক সভাতেই মালদহের ঘটনার প্রসঙ্গ এসেছে তাঁর বক্তৃতায়। মমতার অভিযোগ, “বিজেপি ধার করে মিমকে নিয়ে এসেছে। আইএসএফ ওদের সঙ্গে। কংগ্রেসেরও উস্কানি আছে। আর বিজেপিরও উস্কানি আছে। বিহারে এরা পয়সা নিয়ে ভোট কেটে বিজেপিকে জিতিয়েছিল। বুধবার ওরা অশান্তি করেছে।”
মালদহের সভায় বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে আক্রমণের তেজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন মমতা। তাঁর দাবি, ‘‘মালদহের একটা ঘটনা বাংলার সম্মান নষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয় লোকেরা এর জন্য দায়ী নন। তাঁদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বিজেপির কোকিল। তার সঙ্গে কিছু সাম্প্রদায়িক লোকজন। মালদহে তারাই এ সব করছে। আমরা হাতেনাতে ধরেছি। বিমানবন্দর থেকে সিআইডি ধরেছে। বিচারকদের কারা আটকে রেখেছিল? বহিরাগতেরা।’’
শুধু ওয়েইসি-কে নয়, ভোটপ্রচারে মমতা ক্রমাগত বিজেপি-কেও আক্রমণ করেছেন। চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। এক মঞ্চে বিতর্কে আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘‘মুখোশ আমি টেনে খুলে দেব। উনি আগে থেকে বক্তৃতা লিখে রাখেন। টেলিপ্রম্পটার ছাড়া একটা কথাও বলতে পারেন না। বিজেপিকে বেলাইন করার জন্য আমরা এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়াব।’’ একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারী-প্রশ্নে মোদীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘মালদহ শহরের লোকসভায় দু’টি আসন। একটা কংগ্রেস, একটা বিজেপি জিতেছে। ২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় যদি অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, তবে আপনিও তাদের ভোটে জিতেছেন। আপনি আগে পদত্যাগ করুন।’’
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই তিনি জানান, ভোটের আগে ১৫ দিন রাজ্যে থাকবেন। তা নিয়ে মমতার কটাক্ষ, “ভয় দেখাতে বলছে ১৫ দিন থাকব। তুমি ৩৬৫ দিন থাকো। তোমার মুখ লোক যত দেখবে, তত ভোট কাটবে। কারণ, তোমার মুখে অত্যাচারের চিহ্ন, দাঙ্গার চিহ্ন।”
‘ভোট কাটার খেলা’ খেলছেন ওয়েইসি! দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ভোট কাটার খেলা চলছে। হায়দরাবাদ থেকে আসছে ভাই, সঙ্গে আছে গদ্দার ভাই। ডিটেনশন ক্যাম্প না চাইলে আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমার মন বলছে, বিজেপি শীঘ্রই বিদায় নেবে। তার জন্য বাংলার ভোট আমাদের জেতা জরুরি। কাকের ঘরেই কোকিল জন্মায়। আম বা আমসত্ত্ব দিয়ে দেবেন। কিন্তু ভোট দেবেন না।’’
একই সঙ্গে দলীয় কর্মী-কাউন্সিলরদের সতর্ক করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘কর্মীরাই দলের সম্পদ। যাঁরা বিএলএ এজেন্টের কাজ করেন, মিছিল মিটিং করেন, লড়াইয়ের ময়দানে থাকেন, পালিয়ে যান না, তাঁরাই দলের সম্পদ।’’ তার পরেই মমতার সতর্কবার্তা, ‘‘অহঙ্কার চলে এলেই দুর্বলতা বাড়বে।’’ কাউন্সিলদের উদ্দেশে মালদহের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘কারও কথা শুনে নিজের দায়িত্ব এড়াবেন না। তৃণমূলের প্রার্থী মানে সরকার আমি গড়ব। আমার প্রতি ভরসা যদি থাকে, আগামী দিনে আপনারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।’’
রাজ্য সরকারের নাম করে প্রতারণার অভিযোগেও সকলকে সতর্ক করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আসছি বলেও যদি কেউ আপনাদের কাছে আসে, অ্যাকাউন্ট নম্বর চায়, ভুলেও দেবেন না। সব কেড়ে নেবে। ওটা বিজেপি ছদ্মবেশে করছে। ভোটের সময় ভুল করেও এ সব করবেন না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২১:৫২
‘গোপন বৈঠক ডেকেছেন শাহ, ১৫০ ঘণ্টায় গুরুতর কিছু ঘটানো হবে পশ্চিমবঙ্গে’! দাবি এবং আশঙ্কাপ্রকাশ তৃণমূলের -
২১:২৯
নিজের কেন্দ্রে জনসংযোগে জোর মুখ্যমন্ত্রীর, ভবানীপুরে একের পর এক আবাসনে প্রচার সারলেন বিদায়ী বিধায়ক মমতা -
১৯:০৮
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘যুবসাথী’র প্রত্যেক প্রাপক বিজেপি-ঘোষিত তিনহাজারি ভাতা পাবেন? দলের তরফ থেকে কী জানালেন স্মৃতি -
১৭:৫৬
মিলিটারিদের দিয়ে মিটিং করছে, সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছে, সব নিয়েই খালি হাতে ফিরতে হবে! বিজেপি-কে নিশানা মমতার -
১৭:০৫
বাংলার উপর যে অত্যাচার করেছ, গণতান্ত্রিক ভাবে তার বদলা তো নেবই! বিজেপিকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতার