পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভিন্ রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরার জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে ফিরতে পারলেন না বহু সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক। মুম্বই, কেরল, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুর, দিল্লি, পাঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে কর্মরত শ্রমিকরা ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় যেমন হতাশ হয়েছেন, তেমনি তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছে। কেউ রেলকে দুষছেন, কেউ বা দুষছেন নির্বাচন কমিশনকে।
যাঁরা ফিরেছেন, তাঁরা খুবই নাকাল হয়েছেন। অনেককে ট্রেনে দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে। অনেকে বাসের ছাদে চেপে বাড়ি পৌঁছেছেন।
কেরলে মাস সাতেক আগে কাজ করতে গিয়েছিলেন ভগবানগোলার আসরাফুল ইসলাম, মোমিন শেখ, আলম শেখেরা। নির্বাচনের আগে বাড়ি ফিরবেন ভেবে ইদের সময় বাড়ি ফেরেননি তাঁরা। নির্বাচনের আগে অত দূরের পথ ট্রেনে আসতে হবে, কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়নি। সোমবার ফোনে আসরাফুল বলেন, “ভেবেছিলাম ভোটের সময় বাড়ি ফিরব। কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাচ্ছি না। ভোট দিতে যাব কিভাবে? সোমবার রাতের মধ্যে ট্রেন ধরতে পারলে তাও ভোটের দিন সকালে হয়তো বাড়ি পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু টিকিট পেলাম না বলে বাড়ি ফেরা হল না। আমাদের পক্ষে বেশি টাকা খরচ করে আকাশপথে যাওয়াও সম্ভব নয়। আমরা প্রায় ৫০ জন এক সঙ্গে আছি।”
মুম্বই থেকে সোমবার দুপুরে ট্রেন ধরেছেন রানিতলার বাসিন্দা কাউসার শেখ। তিনি বলেন, “ট্রেনে আছি, সংরক্ষিত টিকিট পাইনি, তারপরেও অসংরক্ষিত কামরায় মাত্রাতিরিক্ত ভিড়। বেঁচে আছি এতটুকুই। কাল রাতে বা পরশু সকালে বাড়ি পৌঁছাব। ভোট না দিলে যদি নাম কেটে দেয়।”
চেন্নাই থেকে নির্বাচনের আগে বাড়ি ফিরতে পারলেন না লালগোলার অরুন মণ্ডল। তিনি বলেন, “গত এক মাস ধরে প্রতিদিন সাধারণ এবং তৎকাল টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মুহূর্তে টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরেও অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে যোগ দিতে পারলাম না।”
পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, “নির্বাচনের অনেক আগে আমরা রেল দফতর, নির্বাচন কমিশন-সহ একাধিক জায়গায় আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আমাদের আবেদনে সাড়া দেয়নি রেল। কয়েকটি অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন চালানো হলে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন।”
পূর্ব রেল এক আরটিআই-এর জবাবে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পরিযায়ীদের জন্য আলাদা করে বিশেষ ট্রেন চালানো হয়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)