এমন তপ্ত নববর্ষ বাংলায় সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। একে তো ভোটমুখী বঙ্গে নির্বাচনী উত্তাপ। ও দিকে বৈশাখ পড়তে না পড়তেই চড়চড়িয়ে উঠতে শুরু করেছে তাপমাত্রার পারদ। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বাজারে আনাজের মূল্যবৃদ্ধি। চৈত্র-বৈশাখ মাসে আনাজের দাম নাগালের মধ্যেই থাকার কথা। অথচ এ বার বাংলা নববর্ষের গোড়া থেকে লাগামছাড়া দামে ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে উচ্ছে, বেগুন, পটল, মুলো।
এক কথায়, আলু ছাড়া আর প্রায় কোনও আনাজের দামই নাগালের মধ্যে নেই। ১২-২০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির আলু বিকোচ্ছে। সর্বোচ্চ চন্দ্রমুখী ২০-২২ টাকা, জ্যোতি ১২ টাকা কেজি। ও দিকে চাষিরা দাম না পেলে কী হবে, খুচরো বাজারে রোজই চড়ছে পেঁয়াজের দাম। একটু ভাল মানের পেঁয়াজ সোমবার নবদ্বীপ বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। তুলনায় একটু কমা পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি। ক’দিন আগেও যা ১০-১৫ টাকায় বিকিয়েছে।
এ ছাড়া বাজারে সস্তা বলতে মিষ্টি কুমড়ো, ৩০ টাকা কেজি। তা বাদে যাবতীয় আনাজ ৪০-৫০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে। লাউ-চালকুমড়ো আকার অনুযায়ী ৪০-৬০ টাকা। গরমের প্রধান আনাজ পটল, ঝিঙে, ঢেঁড়শের দাম শীতকালেরৈ কথা মনে করাচ্ছে। নানা রকম ডাঁটা গরমের বাজারে অন্যতম আনাজ। সেই ডাঁটার ডাঁটে পিলে চমকে যাওয়ার যোগাড়। সজনে ডাঁটা এখন পাওয়াই দুষ্কর। নাজনে ডাঁটাই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। দেশি নাজনে ১০০ টাকা। বেঙ্গালুরু থেকে আসা চালানি ডাঁটা ২০০-২৫০ টাকা। লাল ডাঁটা ৪০ টাকা। বেগুন ১০০ টাকা।
কিন্তু কেন এমন হু হু করে দাম চড়ছে আনাজের? চাষিরা এ জন্য দায়ী করছেন ক’দিন আগে হওয়া দফায়-দফায় বৃষ্টিকে। কৃষি বিশেষজ্ঞেরাও মনে করেন চৈত্র শেষের বৃষ্টি পাট, আম বা অন্য ফসলের জন্য ভাল হলেও মরসুমি আনাজের জন্য একেবারেই ভাল হয়নি। একাধিক বার নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের সতর্কবার্তায় চাষিরা খেতের আনাজ যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় কেটে নিয়েছিলেন। তখন বাজারে জোগানের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। ফলে কমেছিল দাম। তার পরিণতিতে এখন জমিতে আনাজের পরিমাণ তুলনায় কম। নদিয়ার চাষি মহানন্দ দাস কিংবা কাঁচা আনাজের কারবারি বলাই ভৌমিকেরা জানাচ্ছেন, যতদিন না ফের ওই সব আনাজের ফলন হচ্ছে, তত দিন দামে বৃদ্ধি ঘটতেই থাকবে।
এ ছাড়া ভোটেরও প্রভাব আছে। জেলার এক পাইকার প্রদীপ সাহা বলেন, “আমাদের রাজ্যে মানুষের ভোট নিয়ে আগ্রহ একটু বেশি। কী গ্রাম কী শহর, অনেকেই এখন কাজকর্ম বাদ দিয়ে ভোটে জড়িয়ে পড়েছেন। মাঠে যাওয়ার লোক কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় আনাজের যোগান আসছে না আড়তে। তাতেই বাড়ছে দাম।” ভোটের কাজের জন্য বিভিন্ন রকম যানবাহন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। জেলা থেকে আনাজ কলকাতা-সহ অন্য বড় শহরে চালান অনেক কম যাচ্ছে। তার জেরে ওই সব অঞ্চলে দাম বাড়ছে আনাজের। সব মিলিয়ে ভোট না মেটা পর্যন্ত বাজারের হাল বিশেষ ফিরবে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ী থেকে চাষি সকলেই। কেননা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁরা এখন ভোট নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। বাজারে নজর দেওয়ার সময় নেই কারও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)