তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
বিজেপি-কে খোঁচা দিয়ে মমতা বলেন, “পকেট থেকে এক টাকা বের করলেই হবে। কবে খাবে বলো, রান্না করে পাঠিয়ে দেব। কথা দিচ্ছি, কাউকে দিয়ে করাব না। আমি নিজে হাতে রান্না করব। দেখি তুমি মাছে ভাতে বাঙালিকে কত পছন্দ করো।”
বিজেপি-কে বিঁধে মহিলাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “আরেকটা নাড়ু করতে হবে মা-বোনেদের। হাতে গ্লাভ্স পরে করবেন। বিছুটি পাতার নাড়ু। তার মধ্যে একটু চুন দিয়ে দেবেন। মুখে মাখলেই মুখটা পরিষ্কার সাদা ধবধবে ফেসিয়াল হয়ে যাবে।”
মমতা বলেন, “মিলিটারিদের সঙ্গে মিটিং করছেন ভোট করার জন্য। কোনওদিন কেউ দেখেছেন? সব এজেন্সি নিয়ে এসেছেন। আমার প্রার্থীদের প্রচার করতে দিচ্ছে না। সব রেড করছে বাড়ি গিয়ে গিয়ে। আর মিথ্যা কথা বলছে। আর চোর-ডাকাতগুলো বসে আছে। বিজেপির মন্ত্রীগুলো সবক’টা চোর, সবক’টা গদ্দার, সবক’টা ডাকাত। মহিলা নির্যাতন করে। কার বাড়িতে রেড করছে? এক জনের বাড়ি দেখান। বলছে, গাঁজা দিয়ে তৃণমূলের সবাইকে অ্যারেস্ট করে দাও। তুমি গাঁজা দেবে, আর আমি তোমাকে খাজা দেব? ভেবো না আমরা লক্ষ্য রাখছি না। যারা যারা এ সব করে বেরাচ্ছো, বিজেপি তো শীঘ্রই যাবে, তোমরা যেখানেই থাকো আমি কিন্তু ক্ষীরের নাড়ু পাঠাব। সকলের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর জোগাড় করে রাখছি।”
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, “আমি তো লিট্টি খাই, চাপাটি খাই। যার যা ইচ্ছা, সে তা-ই খাবে। আপনার রাজ্যে মাছ-মাংস-ডিম খেলে কেন মারবে? বাংলা ভাষায় কথা বললে কেন মারবে? আমাদের এখানে সব সম্প্রদায়, সব ধর্ম একসঙ্গে থাকি ভাই-বোনের মতো। আমরা কাউকে অবহেলা করি না। কিন্তু আপনারা আপনাদের রাজ্যে বাংলাভাষীদের বহিরাগত, বিদেশি বলেন।”
মমতা বলেন, “আবার হারাব। দিল্লি থেকেও বিদায় করব। পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করেছ। পশ্চিমবঙ্গের উপর অত্যাচার করছ। পশ্চিমবঙ্গ বদলা নেবে তোমাকে বদলে। ভোটের মাধ্যমেই তোমাকে হারাব। পতন তোমার শুরু হয়ে গিয়েছে। যতই সাজিয়েগুজিয়ে ঝালমুড়ি খাও। ঝালমুড়ি খেলে ওই দোকানে ক্যামেরা থাকে কী করে, আগে থেকে লাগিয়ে না রাখলে! আর আপনি ১০ টাকার নোট নিয়ে ঘোরেন পকেটে, এটা আমায় ভাবতে হবে!”
মমতা বলেন, “একটা বিল আনতে গিয়েছিল। ওটা মহিলা বিল নয়। সত্যি কথাটা হচ্ছে, মহিলা বিল ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পাশ হয়ে গিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চ্যালেঞ্জ করছি, মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। আমাদের মা-বোনেদের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। আমরা নিজেরা সমর্থন করেছিলাম। ’২৩-এর পরে তিন বছর কেটে গেল। এখনও কেন বিজ্ঞপ্তি জারি হল না?” মমতার দাবি, ওটি মহিলা বিল ছিল না। ওটি আসলে মহিলা বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিল ছিল।
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বললেন, “এখন গ্যাস পাচ্ছেন কেন বলুন তো? আমার ঝগড়ার জন্য। আমি ঝগড়া করে বলেছি একদম পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যেতে দেব না। ভোট ফুরিয়ে যাবে, সব গ্যাস পালিয়ে যাবে। তখন গ্যাসটা আবার কত দাম বাড়বে দেখে নেবেন।”
মমতা বলেন, “এটা নাকি সব অনুপ্রবেশের কারখানা। এখানে নাকি মেয়েরা শান্তি পায় না, রাস্তায় বেরোতে পারে না। নয়ডা, অসম, মণিপুর জ্বলছে। কে জ্বালাচ্ছে?”
মমতা বলেন, “প্রত্যেকটা মিটিংয়ের আগে গুহাতে গিয়ে বসে থাকে। বরফের গুহা তৈরি করে এয়ার কন্ডিশন সাজিয়ে। যেন ধ্যান করছে। আরে যাদের আগে নৈতিক চরিত্র ঠিক করা দরকার, তারা নাকি নীতির কথা বলে। এ দেশে এটা হচ্ছে উলটপুরাণ। ভদ্রতা মানি বলে মুখ খুলি না।”
মমতা বলেন, “সীমান্ত রক্ষা করতে যাঁদের কাজে লাগায়, যুদ্ধে যে বীর সৈনিকেরা প্রাণ দেন, আমরা তাঁদের স্যালুট জানাই। পহেলগাঁও রক্ষা করতে পারে না, মিলিটারিদের দিয়ে মিটিং করছে। সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছে। সব নিয়ে এসেছে। তা-ও বলি, সব নিয়ে তুমি ফিরে যাবে। খালি হাতে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তোমাদের বিশ্বাস করে না।”
মমতা বলেন, “মেয়েদের ব্যাগ সার্চ করতে বলছে। আমার হাতে কিন্তু এখন পুলিশ নেই। আপনাদের উপর অত্যাচার হলে ভাববেন, আমার নয়, ওটা বিজেপির।”
মমতা বলেন, “তৃণমূলকে চার্জশিট দিচ্ছে। তৃণমূলের সবাই চোর? জানেন তো, বাংলায় কথা আছে, চোরের মায়ের বড় গলা। ডাকাতের পার্টি। হার্মাদদের পার্টি। সিপিএমের যত হার্মাদ, সব হয়েছে এখন বিজেপির ওস্তাদ। ভোট দখল করতে নেমেছে।”
বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “ভোটকাটারি। কলকাতায় এক একটা কেন্দ্র থেকে ভোট কেটেছ কত? জল মাপবে?”
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, “যখন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গান্ধীজি বেলেঘাটায় গান্ধীভবনে বসে ছিলেন। কেন জানেন? দেশ ভাগ হওয়ার পরে যাতে দাঙ্গা না হয়। দাঙ্গা রুখে দেওয়ার জন্য। আর তোরা দিল্লি থেকে এসে এখানে দাঙ্গা করছিস, হামলা করছিস।”
বেলেঘাটার সভামঞ্চে বক্তৃতা শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার মমতার তৃতীয় সভাটি রয়েছে বেলেঘাটায় গান্ধী ভবনের সামনে। সেখানে বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং মানিকতলার প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারসভা করছেন তিনি।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy