ঝাড়গ্রামের সভা শেষে রবিবার রাস্তার ধারের ছোট্ট দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পকেট থেকে ১০ টাকা বার করে দামও মিটিয়েছেন। পরে সেই ছবি ও ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেন। মোদীর এই ‘মুড়ি পে চর্চা’-কে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বীরভূমের মুরারইতে তাঁর জনসভা ছিল। মমতার দাবি, ঝালমুড়ি কিনে খাওয়া এবং খাওয়ানোর বিষয়টি মোদীর ‘নাটক’। আগে থেকে দোকানে ক্যামেরা এবং মাইক বসানো ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি-ই ঝালমুড়ি তৈরি করে দিয়েছে।
জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘দোকানে মাইক ফিট করে, এসপিজি-কে দিয়ে ঝালমুড়ি তৈরি করিয়েছেন। ১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওঁর? কত নাটক!’’ এর পরেই মোদীর পূর্বের কিছু পোস্টকে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় গুহায় বসে থাকেন। কখনও ভোটের সময় বলেন, আমি চা-ওয়ালা। এখন ১০ টাকা বার করে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন! বুঝুন! আর যদি তৈরি করা না-ই হবে, তাহলে দোকানে আগে থেকে ক্যামেরা ফিট করা ছিল কী করে? সব নাটক। মানুষ কি বোঝে না?’’ মোদী তাঁর জনসভায় বাইরে থেকে ট্রেনে করে লোক নিয়ে যান বলেও দাবি করেছেন মমতা।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, রবিবার যে দোকান থেকে মোদীকে ঝালমুড়ি খেতে দেখা গিয়েছিল, সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতার নাম বিক্রম সাউ। মোদীর পোস্ট করা ভিডিয়োতে তাঁকেই ঝালমুড়ি বানাতে দেখা গিয়েছে। জনসভা শেষ করে মোদীর কনভয় যখন হেলিপ্যাডের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আচমকা গাড়ি থেকে নেমে এসেছিলেন তিনি। সটান দোকানের সামনে গিয়ে বলেছিলেন, ‘‘ভাই, ঝালমুড়ি খাওয়ান তো!’’ তাঁর দেওয়া ১০ টাকার নোট নিতে ইতস্তত করছিলেন বিক্রেতা বিক্রম। কিন্তু মোদী বলেন, ‘‘এ সব চলবে না।’’ তত ক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়়ি খাওয়া দেখতে দোকানের সামনে লোক জড়ো হয়ে গিয়েছে। নিজে খাওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কয়েক জনের হাতেও ঝালমুড়ি দিয়েছেন তিনি। মমতা বীরভূম থেকে প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিয়োকেই কটাক্ষ করলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত