ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-র অন্যতম ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংহকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ দিল্লির প্রবর্তন ভবনে ইডির দফতরে তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর দেড়টা পর্যন্তও তিনি ইডির দফতরে যাননি বলেই খবর।
ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক বর্তমানে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-কেও তারা পরামর্শ দেয়। দুই রাজ্যেই সামনে বিধানসভা ভোট রয়েছে। ঘটনাচক্রে, ঠিক এমন একটি সময়েই আই-প্যাকের বিরুদ্ধে তদন্তে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর আগে আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়িতে এবং সল্টলেকে সংস্থার দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান চলাকালীন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
সম্প্রতি সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করে ইডি। গত ১৩ এপ্রিল দিল্লিতে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। এখন তিনি রয়েছেন ইডির হেফাজতে। এরই মধ্যে রবিবার সন্ধ্যায় খবর ছড়ায়, আই-প্যাকের অপর ডিরেক্টর ঋষিরাজকেও তলব করেছেন ইডির আধিকারিকেরা। এর আগে গত ২ এপ্রিল বেঙ্গালুরুতে ঋষিরাজের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
জানা যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর-এর প্রেক্ষিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত হয়। আই-প্যাকের বিরুদ্ধে ‘হিসাবপত্রে জালিয়াতি’ এবং সংস্থার কর্তাদের বিরুদ্ধে ‘হিসাব বহির্ভূত ভাবে’ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই ঋষিকেও তলব করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
ঋষি আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এইচএসবিসি, ক্রেডিট সুইস-এর মতো ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিংয়ের নামজাদা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। আই-প্যাকের সূচনাকাল থেকেই ওই সংস্থার সঙ্গে ঋষি রয়েছেন। সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স (সিএজি) থেকে তৈরি হওয়া আই-প্যাকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঋষি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং ২০১৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআরসিপি-র ভোটকুশলী হিসাবে কাজ করেছেন।