ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে তিনি আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছোন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল। মনোনয়ন পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের নেতা সন্দীপ বক্সী প্রমুখ।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ৩৬৫ দিনই এখানে (ভবানীপুর) থাকি। আমার ধর্ম-কর্ম-আন্দোলন সব কিছুই ভবানীপুরকে ঘিরে। ছোট্টবেলা থেকেই এখানেই আছি, এখানেই থাকি। এখান থেকেই আমার সব কিছু। তাই ভবানীপুরের মানুষকে আমার ধন্যবাদ এবং নমস্কার জানাই।” কেবল ভবানীপুরে নয়, রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূল বা তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
কয়েক জন মহিলা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মনের দুঃখ নিয়ে বলছি, এত মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করায় ১ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম উঠেছে। বাদবাকি ৫৮ লক্ষ খোলাই হয়নি।।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, বিবেচনাধীন (অ্যাডজুডিকেশনে) তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের নাম তোলা উচিত বলে মনে করি। এটা সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল।” এই বিষয়ে আবার আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ভিড় করছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে রাস্তার একাংশ গার্ডরেল দিয়ে ঢেকে দেয় পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার ধারে ভিড় জমান বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত জনতার দিকে হাত নাড়তে নাড়তে এগোন। মুখ্যমন্ত্রীর পিছনে ছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের লম্বা মিছিল। মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা কর্মীরা শঙ্খ বাজিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন খতিয়ে দেখেন কমিশনের আধিকারিকেরা। আগেই জানা গিয়েছিল যে, ভবানীপুর কেন্দ্রের ‘কসমোপলিটান’ বা ‘বহুত্ববাদী’ চরিত্রকে সামনে রেখে তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকদের তালিকায় প্রতিফলিত হবে ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব। মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিংহ রানে, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই কেন্দ্রে একদিকে যেমন রয়েছে ৭২ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের মতো বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা, তেমনই ৬৩, ৭০, ৭১, ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন গুজরাতি, পঞ্জাবি ও মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের মানুষ। ভবানীপুরে জৈন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। আবার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাধিক্য। এ ছাড়াও বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বহু মানুষের বাস এই কেন্দ্রে। ফলে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যে ভরপুর ভবানীপুরকে অনেকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। মনে করা হচ্ছে, ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের চার জনকে প্রস্তাবক করে সেই বাস্তবতাকেই এ বার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসাবে তুলে ধরতে চাইলেন মমতা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত