আইনি জটে বাতিল হয়ে গেল কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্যের মনোনয়নপত্র। প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি থাকা সংক্রান্ত জটিলতায় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৯-এ ধারায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
গত মঙ্গলবার শান্তিপুরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনবকে কৃষ্ণনগর উত্তরের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছিল তৃণমূলনেত্রীর মুখে। কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি সরকারের কোনও কাজে সরাসরি ঠিকাদারিতে যুক্ত থাকেন বা সরকারের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িয়ে থাকে, তবে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর ক্ষেত্রে কমিশনের পর্যবেক্ষণ, সরকারি কাজের বরাত বা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় মনোনয়ন জমা দেওয়া জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী। উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন দলের কোনও প্রার্থী যদি সরকারের সঙ্গে কোনও রকম ব্যবসায়িক লেনদেনে যুক্ত থাকেন, বা সরকারি বরাত নিয়ে কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে ৯-এ অনুযায়ী তাঁর প্রার্থিপদ বাতিল হতে পারে। মনোনয়ন বাতিলের পর অভিনবের প্রতিক্রিয়া, ‘‘বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’’ তবে তিনি দলের পাশে রয়েছেন। দল যা বলবে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবেন।
আরও পড়ুন:
এমন পরিস্থিতি যে তৈরি হতে পারে সে কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই বিকল্প প্রার্থী তৈরি রেখেছিল তৃণমূল। ওই কেন্দ্রে শাসকদলের তরফে বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ানো হয়েছিল। তাঁর নাম সোমনাথ দত্ত। তিনিই কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা যাচ্ছে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘‘অভিনব ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, এটা আমরা সকলে জানি। ওঁর ব্যবসা সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ওঁর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আমাদের দ্বিতীয় প্রার্থী হিসাবে সোমনাথ দত্ত ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’’ মহুয়ার সংযোজন, ‘‘এটা অনেকটা রিলে রেসের মতো, অনেকটা এগিয়ে দিয়েছেন অভিনব, বাকিটা শেষ করবেন সোমনাথ।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত