ঝাড়গ্রামে সভা শেষ। হেলিপ্যাডের দিকে এগোনোর সময় আচমকা থমকে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়। পড়ন্ত দুপুরে গাড়ি থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন কলেজ মোড় এলাকার একচিলতে ছোট্ট একটি ঝালমুড়ির দোকানের দিকে। ‘ভাই, ঝালমুড়ি খাওয়ান তো।’
প্রধানমন্ত্রী মুড়ি খাবেন শুনে খানিক বিহ্বল চোখে তাকিয়ে রইলেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউ। প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনলেন। বিক্রম টাকা নিতে দ্বিধা করছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘‘এ সব হয় না।’’ পকেট থেকে টাকা বার করে ঝালমুড়ি বিক্রেতার হাতে ধরিয়ে দিলেন তিনি। মুড়ি বানানোর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বিক্রমের প্রথম প্রশ্ন, ‘ঝাল খাবেন?’ জবাব এল, ‘হ্যাঁ।’ মুড়ি মাখতে মাখতে বিক্রম বললেন, ‘পেঁয়াজ?’ মোদী হিন্দিতে বললেন, ‘পেঁয়াজও খাই।’ পর ক্ষণেই তাঁর মন্তব্য, ‘স্রেফ দিমাগ নহি খাতে হ্যায়’ (শুধু মাথা খাই না)। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাসলেন মোদী। তার পরে ঝালমুড়ির ঠোঙা নিয়ে নিজে খেলেন, পাশে দাঁড়ানো অন্যদের হাতেও দিলেন। রবিবার চারটি কর্মসূচির মাঝে ঝালমুড়ি সহযোগে ছোট্ট করে জনসংযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী— ‘মুড়ি পে চর্চা।’ পরে সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি সমাজমাধ্যমেও পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
মোদী যখন ঝালমুড়ি কিনছেন, ওই দোকানের সামনে ছিলেন কণিকা মাহাতো, কল্যাণী মাহাতোরা। তাঁরা বলেন, ‘‘এমন ঘটনা চোখের সামনে দেখব, ভাবতেই পারিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী কী সহজ ভাবে নিজে ঝালমুড়ি খেলেন। যাঁরা সামনে ছিলেন, তাঁদের হাতেও দিলেন।’’ মুগ্ধতা আর মুগ্ধতা। আর ঝালমুড়ি দোকানদার বিক্রম জানান, তিনি আদতে বিহারের গয়ার বাসিন্দা। ঝাড়গ্রামের কলেজ মোড়ে এই দোকানটি অনেক দিনের। প্রধানমন্ত্রীকে মুড়ি খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা কেমন? বিক্রম বলেন, ‘‘উনি এসে প্রথমে আমার সঙ্গে আলাপ করেন। আমার নাম, বাবার নাম, ঠিকানা জানতে চান। তার পর বলেন ঝালমুড়ি বানাতে। ঝালমুড়ির ঠোঙা হাতে নিয়ে নিজে খেলেন এবং অন্যদেরও খাওয়ালেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৭:৩২
প্রথম দফায় ২ হাজারের বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন! ঘুরবে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রেই -
১৬:২৬
ভোটঘোষণার পর থেকে ১১ হাজার পোস্ট চিহ্নিত হয়েছে! সমাজমাধ্যমের বিধি কী? ফের মনে করিয়ে দিল কমিশন -
১৫:৪১
যুদ্ধের গাড়ি নিয়ে এসেছে বাংলায়, যেন যুদ্ধ করবে, আমরা গণতন্ত্রের মাধ্যমে লড়াই করব, মন্তেশ্বরে বললেন মুখ্যমন্ত্রী -
১৫:০৩
‘অনুপ্রবেশকারীদের সরকারের জন্য বাংলা নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলতে পারে’! ঝাড়গ্রামের সভায় বলছেন মোদী -
১৩:৪০
‘ওরা চাকরি ছাড়ালে আমরা দেব, অভিষেকের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছি’! আই-প্যাকের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন মমতা