Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ! নির্বাচনের দু’দিন আগে বীরভূমে কমিশনের নির্দেশে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

চলতি মাসের শুরুতে কমিশনের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কমিশন জানায়, ধৃতের নাম রাজু মণ্ডল। তিনি মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৫৫

— প্রতীকী চিত্র।

গ্রেফতার হলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা ডালিম শেখ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে লাভপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডালিমের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বীরভূমে ভোট। তার দু’দিন আগে গ্রেফতার করা হল ওই তৃণমূল নেতাকে। দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল তৃণমূল।

কলকাতায় মঙ্গলবার চার জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা। এঁদের কারও বিরুদ্ধে আর্মস অ‍্যাক্ট (অস্ত্র আইন) কারও বিরুদ্ধে অতীতে ঝামেলা পাকানোর ইতিহাস রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ধৃতদের নাম— জয়দেব মালাকার ওরফে ম‍্যান্ডেলা( টালিগঞ্জ এলাকা), মিন্টু ঘোড়ুই ওরফে বল্টু (পঞ্চসায়র এলাকা), অর্পণ চক্রবর্তী (বাঁশদ্রোণী এলাকা) এবং শাহাদত হোসেন ওরফে শাকা (একবালপুর এলাকা)। তাঁদের ‘ট্রাবল মেকার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অর্পণের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চলতি মাসের শুরুতে কমিশনের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কমিশন জানায়, ধৃতের নাম রাজু মণ্ডল। তিনি মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এর পরেই কমিশন পুলিশকে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেয়।

Advertisement

এই আবহে তাদের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। তারা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে জানায়, তাদের প্রায় ৮০০ জন কর্মীকে নজরে রেখেছে কমিশন। আদালতকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানায় তৃণমূল। মামলা দায়ের করার অনুমতি দেয় হাই কোর্ট।

প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী সভা থেকেই তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, “অনেককে গ্রেফতার করার চেষ্টা হবে।” ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি রিপোর্ট বানিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সেই রিপোর্টে অনেককেই অভিযুক্ত করেছিল তারা। সেই অভিযুক্তের তালিকায় ছিলেন এ বারের নির্বাচনে দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক উদয়ন গুহ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
২৬ মিনিট আগে
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy