Advertisement

নবান্ন অভিযান

একবালপুরে নির্বাচনী প্রচারসভা ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে গ্রেফতার ৯! গন্ডগোলের ঘটনায় রুজু ৩ এফআইআর

সোমবার রাতে একবালপুর থানার কাছেই সংঘর্ষে জড়ান তৃণমূল এবং বিজেপির সমর্থকেরা। দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ লাঠিচার্জও করে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৯

— প্রতীকী চিত্র।

কলকাতার একবালপুরে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি এফআইআর রুজু হয়েছে। সোমবার রাতের ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে, ধৃতদের মধ্যে পাঁচ জন বিজেপির সমর্থক এবং চার জন তৃণমূলের সমর্থক। ওই সংঘর্ষের সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় ছ’জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে শারীরিক ভাবে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশকর্মীদের হেলমেট নিয়ে টানাটানির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সোমবার রাতে একবালপুর থানার কাছেই সংঘর্ষে জড়ান তৃণমূল এবং বিজেপির সমর্থকেরা। দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ লাঠিচার্জও করে। জানা যাচ্ছে, একবালপুরের হোসেন শাহ রোডে সোমবার রাতে একটি নির্বাচনী প্রচারসভা চলছিল বিজেপির। কলকাতা বন্দরের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংহের সমর্থনে ছিল সেই সভা। অভিযোগ, সভা চলাকালীন বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। পাল্টা স্লোগান দেয় বিজেপিও। আর সেই থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়।

ওই গোলমালের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বিজেপি প্রার্থী রাকেশ। বিজেপির দাবি, তাঁকে দেখে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। এর পরে রাকেশের নেতৃত্বে একবালপুর থানার সামনে গিয়ে ধর্নায় বসে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলতে থাকেন তাঁরা। বিজেপির ধর্নার মাঝেই থানার সামনে চলে আসেন এক দল তৃণমূল সমর্থকও। তৃণমূল এবং বিজেপি— একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে থাকেন। যা ঘিরে পরিস্থিতি ফের এক দফা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগান চলাকালীন দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। বিজেপির অভিযোগ, ওই সময়ে আক্রান্ত হন রাকেশও। রাতে তাঁকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তাঁর চোট কতটা গুরুতর, তা জানা যায়নি। সোমবার রাতের ওই ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দুই দল মিলিয়ে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Ekbalpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy