Advertisement
E-Paper

ফের বিক্ষোভ মালদহে! সকালে নতুন করে শুরু অবরোধ, রাতে বিক্ষোভ চলাকালীন জখম এক প্রতিবাদী

বুধবার মালদহের মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে কাজ করেছিলেন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। দুপুরের দিকে সেই ব্লক অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪১
বৃহস্পতিবার সকালে পুরাতন মালদহে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর অবরোধস্থলে মোতায়েন পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে পুরাতন মালদহে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর অবরোধস্থলে মোতায়েন পুলিশ। — নিজস্ব চিত্র।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে মালদহে। এ বার পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায়। রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরোধমুক্ত হওয়ার পরে ফের অবরুদ্ধ হল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয় রাস্তা। অবরোধস্থলে মোতায়েন রয়েছে মালদহ থানার পুলিশ বাহিনী। মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। বুধবার যে দাবিতে কালিয়াচকে বিক্ষোভ হয়েছিল, বৃহস্পতিবারও সেই একই দাবিতে বিক্ষোভ হয় পুরাতন মালদহ ব্লকেও। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের অনেকেরই বৈধ নথিপত্র থাকার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে।

এই দাবিতে বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত মালদহের বিভিন্ন এলাকা। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে জাতীয় সড়ক। ঘেরাও হয়ে থাকেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরাও। পরে বেশি রাতের দিকে তাঁরা ঘেরাওমুক্ত হন। বুধবার রাতে যে ভিড় জড়ো হয়েছিল মালদহের কালিয়াচকে, সেই জমায়েত সকাল থেকে আর দেখা যায়নি সেখানে। সকাল থেকে লোকজনও বেরোতে শুরু করেছেন রাস্তায়। তবে চাপা উত্তেজনা এখনও রয়ে গিয়েছে। গতরাতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না এলাকাবাসীরা।

রাতে যে এলাকাগুলিতে বিক্ষোভ হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই সব এলাকার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পিকেট বসেছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং মালদহ-মোথাবাড়ি রাজ্য সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বসেছে পুলিশ পিকেট। সকাল থেকে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে চোখে পড়ার মতো। সূত্রের খবর, পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। বুধবার রাতে ‘তাণ্ডব’টি চলেছে সুজাপুর এবং মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার মালদহেরই অপর এক বিধানসভা কেন্দ্র বৈষ্ণবনগরে নির্বাচনী জনসভা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এরই মধ্যে পুরাতন মালদহ ব্লকে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হল বৃহস্পতিবার সকালে।

বুধবার মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে কাজ করেছিলেন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। দুপুরের দিকে সেই ব্লক অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বৈধ নথিপত্র থাকার পরেও তাঁদের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। আগে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার পরে ভোট হবে। এই দাবিতে বিক্ষোভের সুর ক্রমশ চড়তে থাকে।

সূত্রের খবর, বিকেল ৫টা নাগাদ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ব্লক অফিস ছাড়ার কথা ছিল। তাঁর আগে থেকেই কালিয়াচক ২ বিডিও অফিস দৃশ্যত ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। ব্লক অফিসের গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে বিকেল ৪টে থেকে ব্লক অফিসের ভিতরেই আটকে পড়েন সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে তিন মহিলাও ছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয় তাঁদের। শেষে মধ্যরাতে পুলিশের গাড়িতে করে তাঁদের উদ্ধার করা হয় ব্লক অফিস থেকে। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে ঘেরাও থাকার পরে মুক্ত হন তাঁরা।

পুলিশ যখন ঘেরাও হওয়া বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনও গাড়ি আটকানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। গাড়িতে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গাড়ির সামনে বাঁশও ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। এ সবের মধ্যেই রাতে বিক্ষোভ চলাকালীন বেশি রাতের দিকে এক জন জখম হন। আলম শেখ নামে ৩৭ বছর বয়সি ওই যুবক বর্তমানে মালদহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা ঘেরাওমুক্ত হওয়ার কিছু সময় পরে অবরোধও তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রশাসন তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় উঠে যাবে। এই প্রতিশ্রুতির পরেই তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। তবে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে ফের রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে বুধবার রাত ২টো নাগাদ যান চলাচল শুরু হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে। মালদহের বাকি যে এলাকাগুলিতে বিক্ষোভ এবং অবরোধ চলছিল, সেখান থেকেও রাতেই সরে যান বিক্ষোভকারীরা।

বুধবার সকাল থেকেই মালদহের সুজাপুর এবং মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন একদল জনতা। তাঁদের দাবি, নথিপত্র থাকার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে। কেন এমন হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আগে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার পরে ভোট হবে। এই নিয়ে সুজাপুর বিধানসভার সুজাপুর, জালালপুর এবং যদুপুর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বুধবার সকাল থেকেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। সকাল ১১টা নাগাদ বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়লে রাস্তা পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

শেষে বুধবার বেশি রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে পুলিশ। যদিও পুলিশের তরফে এ নিয়ে নতুন করে আর কোনও মন্তব্য করা হয়নি বৃহস্পতিবার সকালে। বুধবার রাতে মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ কেবল জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি যে সময়ে এই মন্তব্য করেন, তখনও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা ঘেরাওমুক্ত হননি। তবে এর পরে পুলিশ নতুন করে আর কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

Malda Election Commission Chaos
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy