Advertisement

নবান্ন অভিযান

সল্টলেকে বিজেপির দফতরে বেলেঘাটার দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ, স্লোগান! বেরিয়ে সামাল দিলেন শমীক, লকেটরা

প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। শুক্রবার তাঁর আঁচ গিয়ে পড়ল সল্টলেকে বিজেপির দফতরেও। সেখানেও দলীয়ে কর্মীদের একাংশ প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১৭:১৩
Protest of BJP workers on election candidates at Salt Lake BJP office

সল্টলেকে বিজেপির দফতরে দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ সামলানোর চেষ্টায় শমীক ভট্টাচার্য এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

বেলেঘাটার বিজেপি প্রার্থী পার্থ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সল্টলেকে বিজেপির দফতরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন দলীয় কর্মীরা। দফতর থেকে বেরিয়ে এসে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্য নেতারা।

প্রসঙ্গত, প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। শুক্রবার তাঁর আঁচ গিয়ে পড়ল সল্টলেকে বিজেপির দফতরেও। সেখানেও দলীয়ে কর্মীদের একাংশ প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। বিজেপি দফতরের সামনে অনেকে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান। সূত্রের খবর, বেলেঘাটার বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে সেখানকার দলীয় কর্মীদের একাংশ সন্তুষ্ট নন। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই। শুক্রবার বিজেপির দফতরে গিয়ে ক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টার করেন শমীকেরা। তাঁদের সামনেই ক্ষোভ উগরে দেন কর্মীরা। তবে শমীক জানিয়েছেন, প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে লকেট বলেন, ‘‘কিছু হয়নি। মতবিরোধ থাকতে পারে। আমরা এটা পরিবার। সমস্যা মিটে যাবে।’’ বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁদের মনের মতো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এই প্রার্থীকে তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। তাই প্রার্থী বদলের দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন তাঁরা। বিক্ষোভকারী কর্মীদের মধ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসায় খুন হওয়া অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। তিনি বলেন, ‘‘আমার ভাইকে খুন করেছিল তৃণমূল। তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হচ্ছে। তা এটা লড়াই? না তৃণমূলকে সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা। বিজেপির অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু এই প্রার্থীকে আমরা চাই না।’’ প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। ওই সময়েই ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন হন পূর্ব কলকাতার কাঁকুড়গাছির অভিজিৎ।

অন্য দিকে, মালদহের বৈষ্ণবনগরে প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। শুক্রবার দুপুরে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে রাজু কর্মকারকে। সেখানে প্রার্থীকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে কর্মীরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা জানান, রাজু বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা নন। তা ছাড়া তিনি ‘সরাসরি’ বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এমন এক জনকে প্রার্থী করলে তা তাঁরা কিছুতেই মেনে নেবেন না।

হুগলি বিজেপি জেলা অফিসেও বিক্ষোভ দেখান কর্মী-সমর্থকেরা। বলাগড়ের প্রার্থী বদলের দাবি তুলেছেন তাঁরা। এ বার ওই কেন্দ্রে সুমনা সরকারকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। উল্লেখ্য, তৃণমূলের হুগলি জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি ছিলেন সুমনা। পরে বিজেপিতে যোগ দেন।বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর তাঁকে বলাগড়ে সক্রিয় ভাবে দেখা যায়নি।অথচ তাঁকেই প্রার্থী করা হয়েছে যা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

শুধু বিজেপি-ই নয় প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পরে কোনও কোনও বিধানসভা আসনে প্রার্থীবাছাই নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে শাসকদল তৃণমূলেও। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ ছড়ায় বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। তৃণমূল প্রার্থী প্রচারে গেলে এলাকায় ঢুকতে দেবেন না বলে দাবি করেছেন দলীয় কর্মীদের একাংশ। ওই কেন্দ্রর তৃণমূল প্রার্থী তৌসিফুর রহমানের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছে এলাকায়। কর্মীদের একাংশের দাবি, তাঁরা আশা করেছিলেন, ‘ভূমিপুত্র’ আবু তাহের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ওরফে রনিকে প্রার্থী করা হবে। কিন্তু কলকাতার বাসিন্দা তৌসিফুরকে প্রার্থী করা হয়েছে। তার পরেই ‘বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বহিরাগত প্রার্থী মানছি না, মানব না’ লেখা পোস্টার পড়েছে এলাকায়। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ফইজুল ইসলাম বলেন, ‘‘এখানে রনিদা তৃণমূল দলটা জীবন দিয়ে করল। বাম আমলে মার খেল। এক বার আমাদের বসিরহাট উত্তরের বিধায়কও হয়েছিল। সেই সময় আমাদের এখানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে কলকাতা থেকে কাকে ধরে এনে এখানে প্রার্থী করেছে, তাঁকে চিনিও না। তাঁর নামও শুনিনি কোনও দিন।’’

প্রার্থী বদলের দাবিতে ব্লক সভাপতি অনড় থাকায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভাতেও জটিলতা অব্যাহত। বৈঠকে সমাধান না মেলায় খণ্ডঘোষ বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী-জটিলতা আরও বাড়ল। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে অনড় ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বৈঠক হলেও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
BJP Protest bjp office Samik Bhattacharya Locket chatterjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy