নির্বাচন কমিশনের বিধিতে রয়েছে, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি প্রতিবন্ধকতা থাকলে কাউকে নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই অভিযোগ উঠছে, বহু ক্ষেত্রে সেই বিধি ভঙ্গ হচ্ছে।
শিক্ষকদের একটি অংশের অভিযোগ, ৪০ শতাংশের অনেক বেশি প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষকদের কাছে ভোটের কাজ পরিচালনা প্রশিক্ষণের চিঠি এসেছে। অর্থাৎ, তাঁদের ভোটের ডিউটি করতে হবে। ওই শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, প্রতিটি ভোটের বছরে বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষকদের ডিউটি করার চিঠি আসে। কিন্তু এ বার সেই সংখ্যাটা অনেক বেশি বলে তাঁদের দাবি। প্রশিক্ষণের চিঠি পেয়েছেন যে সব শিক্ষক, তাঁরা জানাচ্ছেন, কত শতাংশ প্রতিবন্ধী তাঁরা, সরকারি শংসাপত্রে তার উল্লেখ আছে। ভোটের ডিউটি থেকে নাম সরাতে তাঁরা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিচ্ছেন।
দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক দেবাশিস সাহা জানান, তাঁর ৭০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। দেবাশিস বলেন, ‘‘আমার ডান পা অসাড়। বাড়ির কাছে স্কুল বলে টোটো করে চলে যাই। ভোটের ডিউটি পড়লে দূরে যেতে হবে। তখন ভোটকেন্দ্রে এত সুবিধা পাব না। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে, শৌচাগারে যেতেও অন্যের সাহায্য লাগে। ভোটকেন্দ্রে কে আমাকে সাহায্য করবে? ভোট চলাকালীন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে, কী ভাবে পুলিশের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছব? আমার সমস্যা জানিয়ে ভোটের ডিউটি মকুবের আবেদন করে জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছি। এখনও উত্তর পাইনি।’’
বাঁকুড়ার একটি স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক রামদাস মণ্ডল জানান, তাঁর ৬০ শতাংশ অস্থি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা আছে। রামদাস বলেন, ‘‘এর আগে দু’বার ভোটের ডিউটি পড়েছিল। এক বার ভোটকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে রিজ়ার্ভে রেখে দেওয়া হয়েছিল। আর এক বার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে যখন ভোট করতে কেন্দ্রে যাচ্ছি, তখন আমাকে জানানো হয় যে, ডিউটি মকুব করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন, এত হেনস্থা কেন করা হবে? কেন ভোটের ডিউটির তালিকা পাঠানোর আগে দেখে নেওয়া হবে না কত শতাংশ প্রতিবন্ধকতা আছে?’’ উলুবেড়িয়া কলেজের শিক্ষক সিরাজুল্লা মল্লিক জানান, তাঁর ৭০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ভোটের ডিউটির চিঠি এসেছে। প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কারা বিশেষ ভাবে সক্ষম, সেই তালিকা স্কুলের কাছে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্কুলের কাছে শিক্ষকদের তালিকাও চেয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, তখন কেন বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পাঠানো হয়নি?
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর সংগঠক তথা আনন্দ ভবন বধির ও অন্ধ বিদ্যালয়ের টিচার-ইন-চার্জ অজয় দাস বলেন, ‘‘প্রতি বার এই হেনস্থায় পড়তে হয়। যদি পরে ডিউটি মকুবও হয়, তবু তো হেনস্থা হচ্ছে। এমনটা বার বার কেন হবে? আমরা চাই, বিশেষ ভাবে সক্ষম সব শিক্ষকের ডিউটি মকুব করুক নির্বাচন কমিশন।’’
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘‘রাজ্য নির্বাচন কমিশনে আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। কমিশনের আশ্বাস, আমাদের ডিউটি মকুব করা হবে।’’ নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের সময়ে সব খতিয়ে দেখে বিবেচনা করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)