নবান্নের অন্দরমহলে দীর্ঘ দিন ধরে প্রভাবশালী মুখ হিসাবে পরিচিত তৃণমূলপন্থী সরকারি কর্মচারী সংগঠনের আহ্বায়ক প্রতাপকুমার নায়েককে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফতর থেকে সরিয়ে দার্জিলিঙের বিজনবাড়ি ব্লকে পাঠানো হল। শুক্রবার জারি হওয়া রাজ্য সরকারের এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের অধীনে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত আপার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রতাপ নায়েককে অবিলম্বে দার্জিলিং পুলবাজার ডেভেলপমেন্ট ব্লকের বিডিও অফিসে ডিটেলমেন্টে পাঠানো হচ্ছে।
নবান্নের প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের কমন ক্যাডার উইং থেকে জারি হওয়া ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বদলি কার্যকর থাকবে। যদিও বদলিকালীন সময়েও তাঁর বেতন স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর থেকেই দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তৃণমূল জমানায় প্রতাপকে ঘিরে নানা বিতর্ক ছিল। সরকারি কর্মচারীদের বদলি এবং প্রশাসনিক কাজে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ বহুবার উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অতীতেও প্রকাশ্যে প্রতাপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সরকারি কর্মচারী সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের উপর অযাচিত প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছিল। এক বার খাদ্য দফতরে প্রতাপের জন্মদিন পালন নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা এ বারের পরাজিত প্রার্থী মানস ভুঁইয়া তাঁকে প্রশয় দিতেন বলেই অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা।
আরও পড়ুন:
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এটি নিছক রুটিন বদলি নয়, বরং ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ারই ইঙ্গিত। অনেকেই মনে করছেন, নতুন প্রশাসনে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে বিতর্কিত বা অতিরিক্ত প্রভাবশালী বলে পরিচিত ব্যক্তিদের সরিয়ে প্রশাসনিক বার্তা দেওয়া হল। তবে এখনও পর্যন্ত এই বদলি নিয়ে কোনও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফেও এ বিষয়ে মুখ খোলা হয়নি। প্রতাপ নিজেও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।