Advertisement
E-Paper

টানা চার জয় গুজরাতের, রাজস্থানের জোড়া হার! বৈভবদের হারিয়ে পাঁচ থেকে এক লাফে দুইয়ে শুভমনেরা

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই রাজস্থান রয়্যালসকে টেক্কা দিল গুজরাত টাইটান্স। এক বারও দেখে মনে হয়নি, এই ম্যাচ জিততে পারবে রাজস্থান। ঘরের মাঠে হারতে হল তাদের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ২৩:০৯
cricket

জয়ের পর উল্লাস গুজরাত টাইটান্সের ক্রিকেটারদের। ছবি: পিটিআই।

অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে গুজরাত টাইটান্সকে। একের পর এক বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছেন শুভমন গিলেরা। আইপিএলে টানা চার ম্যাচ জিতল গুজরাত। অন্য দিকে রাজস্থান রয়্যালস পর পর দুই ম্যাচ হারল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই রাজস্থানকে টেক্কা দিল গুজরাত। এক বারও দেখে মনে হয়নি, এই ম্যাচ জিততে পারবে রাজস্থান। ঘরের মাঠে হারতে হল তাদের।

এই ম্যাচে পুরো গোলাপি জার্সি পরে নেমেছিল বৈভব সূর্যবংশীরা। রাজস্থানের গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের উন্নয়নে সাহায্যের জন্য এই কাজ করে তারা। আগের দু’বার এই জার্সি পরে জিতেছিল রাজস্থান। এ বার হারতে হল।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৯ রান করে গুজরাত। অধিনায়ক শুভমন ৪৪ বলে ৮৪ ও সাই সুদর্শন ৩৬ বলে ৫৫ রান করেন। রান তাড়া করতে নেমে দাঁড়াতে পারেননি রাজস্থানের ব্যাটারেরা। আরও এক বার প্রমাণিত হল যে, বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়াল বড় রান করতে না পারলে রাজস্থান সমস্যায় পড়বে। শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারে ১৫২ রানে শেষ হয়ে যায় রাজস্থানের ইনিংস। ৭৭ রানে হারে তারা।

cricket

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এই জয়ের ফলে ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বর থেকে এক লাফে দ্বিতীয় স্থানে উঠল গুজরাত। শীর্ষে থাকা সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের পয়েন্টও ১১ ম্যাচে ১৪। নেট রানরেটে উপরে তারা। অন্য দিকে পর পর দু’ম্যাচ হেরে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে নামল রাজস্থান।

যে জফ্রা আর্চার এ বারের আইপিএলে তিন ম্যাচে প্রথম বলেই উইকেট নিয়েছেন, সেই তিনিই রাজস্থানের সমস্যার শুরুটা করে দিলেন। ওভার শুরু করলেন চার দিয়ে। সেই ওভারে চারটি ওয়াইড ও একটি নো বল করলেন তিনি। একটি ওয়াইডে তো চার রান এল। মোট ১১ বলের ওভার করলেন তিনি, যা আইপিএলে বলের নিরিখে সর্বাধিক। মহম্মদ সিরাজ, অর্শদীপ সিংহদের ছুঁলেন আর্চার। প্রথম ওভারই ছন্দ নষ্ট করে দিল রাজস্থানের।

গত ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে খেলেননি রাজস্থানের অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। অধিনায়কত্ব করেন যশস্বী। তাতে খানিকটা সমস্যা হয় তাদের। যশস্বীর অধিনায়কত্বের তেমন অভিজ্ঞতা নেই। ফলে বোলিং ও ফিল্ডিং পরিবর্তনে কিছু ভুল করলেন তিনি।

পাওয়ার প্লে কাজে লাগালেন শুভমন ও সুদর্শন। প্রথম ছয় ওভারে ৮২ রান করলেন তাঁরা। সেই ভিতের উপর বড় রান করল গুজরাত। আরও একটি ম্যাচে তাদের ব্যাটিংয়ের প্রধান দুই স্তম্ভ দুই ওপেনার। দু’জনেই অর্ধশতরান করলেন। ৩৬ বলে ৫৫ রান করে যশরাজ পুঞ্জার বলে আউট হলেন সুদর্শন।

জস বাটলার (১৩) রান না পেলেও ভাল দেখাচ্ছিল ওয়াশিংটন সুন্দরকে। শুভমনের সঙ্গে মিলে দ্রুত রান তুলছিলেন তিনি। একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল, শতরান করবেন গুজরাতের অধিনায়ক। কিন্তু ৪৪ বলে ৮৪ রান করে আউট হন তিনি। মাঝের ওভারে রান তোলার গতি কিছুটা কমলেও তাতে ২২০ পার করতে সমস্যা হয়নি। তার কারণ, শুভমন-সুদর্শনের ওপেনিং জুটি।

শেষ দিকে রাহুল তেওতিয়া কয়েকটি বড় শট খেলেন। তাঁর ও ওয়াশিংটনের ব্যাটে ভর করে ২২৯ রান করে গুজরাত। ওয়াশিংটন ২০ বলে ৩৭ ও তেওতিয়া ৪ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

এই নিয়ে পর পর চার ম্যাচে রাজস্থানের বোলারেরা ২২০ রানের বেশি দিলেন। যে বোলিং আক্রমণকে দেখে আইপিএলের শুরুতে ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছিল, সেই আক্রমণই ডোবাচ্ছে দলকে। এ ভাবে চলতে থাকলে প্লে-অফে উঠতে সমস্যা হতে পারে রাজস্থানের।

২৩০ রান তাড়া করার পুরো দায়িত্ব ছিল বৈভব ও যশস্বীর হাতে। বৈভব শুরুটা করে পরিচিত ভঙ্গিতে। একের পর এক বড় শট খেলতে শুরু করে। কিন্তু ওপেনিং জুটি বড় হয়নি। অধিনায়ক হওয়ায় হয়তো বাড়তি চাপ নিয়ে ফেলেছিলেন যশস্বী। মাত্র ৩ রান করে রাগিসো রাবাডার বলে আউট হন তিনি। রাজস্থানকে বড় ধাক্কা দেন মহম্মদ সিরাজ। তাঁর বাউন্সার সামলাতে পারেনি বৈভব। ছক্কা মারার চেষ্টা করে সে। কিন্তু বল ব্যাটের উপরে লেগে হাওয়ায় ওঠে। ভাল ক্যাচ ধরেন আরশাদ খান। ১৬ বলে ৩৬ রান করে আউট হয় বৈভব। তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা মারে সে। ঝোড়ো ইনিংস খেললেও বৈভব বড় রান করতে না পারায় সমস্যায় পড়ে রাজস্থান।

তিন নম্বরে নেমে ধ্রুব জুরেলও শুরুটা ভাল করেছিলেন। রান তোলার গতি সচল রেখেছিলেন তিনি। বড় শট মারছিলেন। কিন্তু শিমরন হেটমায়ার এই ম্যাচে দলে ফিরে ব্যর্থ। রাবাডার বলে ৬ রানে ফিরলেন তিনি। পাঁচ নম্বরে নেমে রবীন্দ্র জাডেজাও প্রথম বলে ছক্কা মেরে শুরু করেন।

রাজস্থানকে বড় ধাক্কা দেন রশিদ খান। এক ওভারে জুরেল ও ডোনোভান ফেরেরাকে আউট করেন তিনি। জুরেল ১০ বলে ২৪ ও ফেরেরা ২ বলে ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন। রশিদের বলেই আউট হন শুভম দুবে (১৫)।

cricket

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বড় শট মারা ছাড়া উপায় ছিল না রাজস্থানের ব্যাটারদের। সেটা করতে গিয়ে পর পর উইকেট পড়ছিল। শুরুর দিকের ম্যাচগুলিতে রশিদকে তেমন ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছিল না। কিন্তু যত সময় গড়াচ্ছে, পুরনো ছন্দে ফিরছেন তিনি। এই ম্যাচে তাঁর বল ধরতেই পারলেন না রাজস্থানের ব্যাটারেরা। ৩৮ রানের মাথায় জাডেজাকেও ফেরালেন তিনি। চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেন তিনি। ৩ উইকেট নিলেন হোল্ডার।

এই ম্যাচ জেতা কোনও ভাবেই সম্ভব ছিল না রাজস্থানের। এটাই দেখার ছিল যে, তারা কতটা কাছে যেতে পারে। শেষ দিকে কিছুটা চেষ্টা করলেন দাসুন শনাকা। কয়েকটি বড় শট খেললেন। কিন্তু গুজরাতের বোলারদের দাপটে পুরো ২০ ওভার খেলতে পারল না রাজস্থান। ২১ বল বাকি থাকতে অল আউট হয়ে গেল তারা।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
সর্বশেষ
৬ ঘণ্টা আগে
Gujarat Titans Rajasthan Royals Shubman Gill
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy