সামনেই নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হওয়ার কথা। রদবদল হওয়ার কথা রয়েছে দলীয় স্তরে। তারই প্রস্তুতি হিসাবে আজ দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাব ও ত্রিপুরা— এই চার রাজ্যে সভাপতি পদে নতুন মুখকে দায়িত্বে আনলেন বিজেপি নেতৃত্ব।
আজ দিল্লি বিজেপির রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে হর্ষ মলহোত্রাকে। পূর্ব দিল্লির ওই সাংসদ বর্তমানে মোদী মন্ত্রিসভায় কর্পোরেট বিষয়ক ও সড়ক পরিবহণ, এই দু’টি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। বিজেপি ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতিতে বিশ্বাসী। তাই দলের দায়িত্ব পাওয়ায় আগামী মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে সম্ভবত মন্ত্রকের দায়িত্ব হারাতে চলেছেন হর্ষ। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও রয়েছে। নিজের নতুন ‘টিম’ ঘোষণা করবেন দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ফলে সব মিলিয়ে দলে ও প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে মন্ত্রিসভা ও দলের মধ্যে পারস্পরিক বেশ কিছু পরিবর্তন হবে। কিছু মন্ত্রী সংগঠনের দায়িত্ব পাবেন। আবার সংগাঠনিক কাজে দক্ষতা দেখানোয় কিছু নেতাকে মন্ত্রী করে পুরস্কার দেওয়া হবে। তারই প্রস্তুতি হিসেবে আজকে চার রাজ্যের বিজেপি সভাপতিকে বেছে নেওয়া হল।’’ দিল্লির পার্শ্ববর্তী রাজ্য হরিয়ানা থেকে আজ দলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে অর্চনা গুপ্তকে। পেশায় রেডিয়োলজিস্ট অর্চনা অতীতে হরিয়ানা মহিলা বিজেপিরসভানেত্রী ছিলেন। মূলত মহিলা ক্ষমতায়নের বার্তা দিতেই হরিয়ানার মতো রাজ্য থেকে অর্চনাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
আগামী বছর পঞ্জাবে বিধানসভা ভোটেও আম আদমি পার্টিকে হারানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। মূলত তারই অঙ্গ হিসাবে ভোটের এক বছর আগে আজ কেবল সিংহ ঢিল্লোকে সভাপতি হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমানে বিজেপির সদস্য ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহের ঘনিষ্ঠ কেবল সিংহ আজ সুনীল জাখরের জায়গায় দায়িত্ব নিলেন। যা নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করে ওই রাজ্যের কংগ্রেস সাংসদ মনীষ তিওয়ারি বলেন, ‘‘পঞ্জাবে বিজেপির নেতার এতটাই অভাব যে, রাজ্য সভাপতি পদে এক জন প্রাক্তন কংগ্রেসিকে সরিয়ে আর এক প্রাক্তন কংগ্রেসিই বসাতে হল!’’
ত্রিপুরায় বিজেপির প্রদেশ সভাপতির নাম ঘোষণা নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন ছিল। প্রায় ৯ মাস পরে সভাপতি পদে মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেবরায়কে বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজীব ভট্টাচার্যের জায়গায় তিনি দায়িত্ব নিলেন। রাজ্যসভার সাংসদ তথা সদ্য প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি রাজীবের সভাপতি পদের মেয়াদ গত বছর অগস্টে শেষ হয়ে যায়। তার পরে সভাপতি পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরমহলে জল্পনা চলছিল। অবশেষে আজ অভিষেকের নাম চূড়ান্ত করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)