Advertisement
E-Paper

ওয়েব সিরিজ় দেখে পাঁচ মাস ধরে খুনের পরিকল্পনা! রাজস্থানে পঞ্চায়েত প্রধান-সহ চার জনকে হত্যা তাঁরই নাবালক পুত্রের

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাড়ির ভিতরে পঞ্চায়েত প্রধান রামসিংহ চৌধরি, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, মা এবং ভাইঝির ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১৪:৫৩
রাজস্থানের অজমেরে পঞ্চায়েত প্রধান-সহ চার জনের দেহ উদ্ধার গাড়ি থেকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।

রাজস্থানের অজমেরে পঞ্চায়েত প্রধান-সহ চার জনের দেহ উদ্ধার গাড়ি থেকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।

রাজস্থানের অজমেরে প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, মা এবং ভাইঝির হত্যার ঘটনায় ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এল পুলিশের হাতে। প্রাথমিক ভাবে এই খুনের ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বেশ কয়েকটি সূত্র ধরে তদন্ত এগোতেই অন্য ছবি উঠে আসে। শুধু তা-ই নয়, এটি যে পুরোপুরি পরিকল্পিত একটি ঘটনা, তা-ও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী এক আধিকারিকের।

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাড়ির ভিতরে পঞ্চায়েত প্রধান রামসিংহ চৌধরি, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, মা এবং ভাইঝির ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমেই পুলিশের প্রথম সন্দেহ হয় রামসিংহের বছর সতেরোর পুত্রকে। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, পরিবারের এতগুলি লোকের মৃত্যু হল, তার পরেও কী ভাবে এত শান্ত আচরণ করছে সে? তদন্তকারী সূত্রে খবর, কিশোরের সেই আচরণই নজরে পড়েছিল। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রামসিংহের প্রথম স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু শোকতাপের কোনও চিহ্ন ধরা পড়েনি ওই কিশোরের চোখেমুখে। বরং সে তাঁর মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল এবং বসে বসে চা খাচ্ছিল।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, রামসিংহের পরিবারের লোকেরা প্রথমে দাবি করেছিলেন যে, অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন রামসিংহ। সেই সময় গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আগুন ধরে যায়। ফলে গাড়িতে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়। কিন্তু তদন্তকারীরা দেখেন, গাড়ির সামনের আসনে চার জনের কেউই ছিলেন না। আবার রামসিংহের দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যজ্ঞানের দেহে ছুরির আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। আর এখান থেকেই তদন্ত অন্য দিকে মোড় নেয়। তার পরই রামসিংহের পুত্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

অভিযুক্তকে জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, সে নিয়মিত অপরাধ সংক্রান্ত ওয়েব সিরিজ দেখত। শুধু তা-ই নয়, দিনের বেশির ভাগ সময় অনলাইন গেমে মজে থাকত। তদন্তকারীদের দাবি, কী ভাবে খুন করে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা যায়, সব কিছু ইন্টারনেটে সার্চ করেছিল। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার রাতে রামসিংহ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মদ্যপান করেন। তার পর দু’জনে ঘুমোতে চলে যান। পুলিশের সন্দেহ, অভিযুক্ত কিশোর সেটা নজরে রেখেছিল। অপেক্ষা করছিল কখন রামসিংহ এবং তাঁর স্ত্রী ঘুমোতে যাবেন। রাত ৪টে পর্যন্ত মোবাইলে গেম খেলে সে। তার পর রামসিংহের ঘরে ঢোকে। প্রথমে ছুরি দিয়ে রামসিংহকে কোপায় তাঁর পুত্র। আওয়াজে তাঁর স্ত্রী সূর্যজ্ঞান ঘুম থেকে জাগতেই দেখেন রামসিংহের উপর হামলা করেছে ছেলে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। রামসিংহের প্রথম স্ত্রী এবং কন্যা এই কাজে কিশোরকে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ। তার পর পাশের ঘরে যান তিন জনে। সেখানে রামসিংহের মা এবং ভাইঝিকেও খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তার পর চার জনের দেহ গাড়িতে তুলে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দু’টি বিষয় শেষমেশ অভিযুক্তদের ধরিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। এক, রামসিংহের স্ত্রীর শরীরে গভীর ক্ষত এবং গাড়ির পিছনের আসন থেকে চার জনের দেহ উদ্ধার।

Ajmer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy