ঝড়বৃষ্টির জেরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাস্থলের ছাউনি। মঙ্গলবার দুপুরে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় নির্বাচনী প্রচারসভা রয়েছে তৃণমূলনেত্রী মমতার। দলীয় প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলইয়ের সমর্থনে ক্ষীরপাইয়ের চড়কডাঙা ময়দানে সভা করবেন তিনি। কিন্তু তার আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোপে পড়ল সভাস্থল।
সোমবার রাতের ঝড়বৃষ্টির সভাস্থলের ছাউনি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলকাদা জমে যায় সভাস্থলের আশপাশে। ছাউনির একাংশ খুলে যায় ঝড়বৃষ্টির দাপটে। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সভাস্থলকে পুরনো চেহারায় ফেরাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছেন ডেকরেটার্সের কর্মীরা। সভাস্থলকে ফের গুছিয়ে তুলতে সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। মাঠের যে অংশে জলকাদা হয়ে গিয়েছে, সেখানে বালি ফেলা শুরু হয়েছে।
সোমবার রাতে ঝড়বৃষ্টি হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে আর সেই ভাবে কোনও বৃষ্টি হয়নি। ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই সামলে উঠতে পেরেছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক এবং ডেকরেটার্সের কর্মীরা। এ বিষয়ে তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হ্যাঙ্গার থেকে ত্রিপল খুলে যায়। জলকাদা হয়ে গিয়েছে বৃষ্টির কারণে। দলের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন। তিনি (মমতা) সাড়ে ১২টায় আসবেন। তার আগে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীও বলেন, “রাতেই বৃষ্টি থামার পর পাম্প বসিয়ে জল বার করানো কাজ শুরু হয়েছে। জলকাদা জায়গায় বালি দেওয়া হচ্ছে। আমরা সভা করার জন্য প্রস্তুত। নির্ধারিত সময়েই হবে সভা। দলের কর্মীরা একজোট হয়ে হাত লাগিয়েছেন সভাস্থল তৈরি করতে।”
সোমবার বেলদার জনসভা থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ওই সভার শুরুতেই মমতা বলেন, “ওয়েদার ঠিক নেই। কখনও রৌদ্র, কখনও ঝড়, কখনও জল। মেদিনীপুর জেলায় এমনিতেই সাইক্লোনটা বেশি হয়।”
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার তৃণমূলনেত্রীর মোট তিনটি জনসভা রয়েছে। চন্দ্রকোনার পাশাপাশি গড়বেতা এবং বিষ্ণুপুরেও সভা করার কথা রয়েছে তাঁর। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম জনসভাটিই রয়েছে চন্দ্রকোনায়। দুপুর ১২টায় সেখানে বক্তৃতা করার কথা তৃণমূলনেত্রীর। চন্দ্রকোনার প্রার্থীর হয়ে প্রচার সেরে গড়বেতা এবং বিষ্ণুপুরের দলীয় প্রার্থীদের হয়েও প্রচারে যাবেন মমতা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত