বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে প্রথম রাজনৈতিক পক্ষ হিসেবে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিল বামফ্রন্ট। প্রথম দফায় ১৯২ আসনের তালিকায় সিপিএমের প্রার্থী ১৪০ জন। বাম শরিকদের মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লকের ২১, আরএসপি-র ১৩, সিপিআইয়ের ১৬, এবং আরসিপিআই ও মার্ক্সবাদী ফরওয়ার্ড ব্লকের এক জন করে প্রার্থী রয়েছেন। বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) আলাদা ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।
কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে কয়েক মাস আগে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বোমার আঘাতে নিহত বালিকা তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে এ বার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছে সিপিএম। যাদবপুর থেকে সিপিএম প্রার্থী হচ্ছেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। দমদম উত্তর থেকে দীপ্সিতা ধর, উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দমদমে ময়ূখ বিশ্বাস, পানিহাটিতে কলতান দাশগুপ্ত, খড়দহে দেবজ্যোতি দাস, বরাহনগরে সায়নদীপ মিত্র, মহেশতলায় সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী। রায়দিঘি থেকে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে সাম্য গঙ্গোপাধ্যায়কে। এ বারের প্রার্থী তালিকাতেও বামেরা জোর দিয়েছে তারুণ্যেই। পাশাপাশিই প্রাক্তন সাংসদ বিকাশ, প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী ও আমজাদ হোসেন, মালদহের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্রদের ময়দানে নামানো হয়েছে।
প্রথম তালিকায় মীনাক্ষী ছাড়া সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর আর এক সদস্য এবং বাঁকুড়ার জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রমের নাম রয়েছে রানিবাঁধ কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর আরও কেউ প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা জিইয়ে রয়েছে বাম শিবিরের একাংশে। তবে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের একটি সূত্রের মতে, সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। প্রথম তালিকায় মহিলা মুখ ২৮।
ভোটার তালিকা বিচারাধীন থাকায় অনেকে প্রার্থী হতে পারছেন না বলে অভিযোগ সিপিএমের। এই ধরনের প্রত্যাশীদের নিয়ে আদালতে যাবে তারা। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সোমবার বলেছেন, “ভোট দেওয়া এবং ভোটে প্রার্থী হওয়া, দু’টোই মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। বিচারাধীন থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন ব্যাহত হবে। এই রকম প্রত্যাশীরা আবেদন করবেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই ভাবে মানুষের অধিকার নির্বাচন কমিশন বা কেউই কেড়ে নিতে পারে না।” বিবেচনাধীন তালিকার নিষ্পত্তি করে তার পরে ভোট প্রক্রিয়ার দাবি ফের তুলেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও। তাঁর বক্তব্য, “মানুষের অধিকারের উপরে হামলা হচ্ছে। বিচারাধীন বলে কোনও মানুষকে ঝুলিয়ে রাখা যায় না। কারও মুখের কথায় চিঁড়ে ভিজবে না! ভোটার তালিকার নিষ্পত্তি করে ভোট করতে হবে। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এমন নজির নেই, গোটা পৃথিবীতে চর্চা হচ্ছে!”
তবে বামফ্রন্টের প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও শরিকি দ্বন্দ্ব মিটছে না। ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান যে তালিকা ঘোষণা করেছেন, তাতে কোচবিহার উত্তর, জলপাইগুড়ি (সদর), হরিশ্চন্দ্রপুর ও গলসি আসনে সিপিএম প্রার্থীদের নাম রয়েছে। ওই চার আসন আগে ছিল বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের ভাগে। সন্ধ্যায় ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমানকে চিঠি দিয়ে ফ ব-র রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে সব আসন নিয়ে ফয়সালা হয়নি, সেখানে প্রথম দফায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে না বলে ফ্রন্টে কথা হয়েছিল। কিন্তু সেই ‘কথার খেলাপ’ করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে সিপিএম। তাই ফ ব-ও সেখানে লড়তে চায়। সে ক্ষেত্রে চার কেন্দ্রেই ফ ব ‘বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’য় যেতে পারে। নদিয়ার কালীগঞ্জ আসন নিয়ে একই রকম অভিযোগ আরএসপি নেতৃত্বেরও।
রাজ্যে এ বার ১০টি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা এ দিনই জানিয়েছে লিবারেশন। পাঁচ বছর আগে তাদের অবস্থান ছিল, ‘নো ভোট টু বিজেপি’। এ বার তারা বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস, দু’পক্ষকেই পরাস্ত করার ডাক দিয়ে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার বলেছেন, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তাঁরা ১০টি আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিধানসভা ভোটের গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার আগে বিচারাধীন ভোটার তালিকার নিষ্পত্তি করার দাবিও তুলেছে লিবারেশন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)