ব্রত পালন করছে মীরা কপূরের ত্বক। সাধারণত নিয়ম মেনে ত্বকের জন্য পুষ্টির জোগানের বন্দোবস্ত করেন শাহিদ কপূরের স্ত্রী। বাইরে ও ভিতর থেকে, দু’ভাবেই ত্বকের যত্ন নেন দুই সন্তানের মা মীরা। হঠাৎ তাঁর হল কী? সমাজমাধ্যমে জানালেন, তিনি এখন ‘স্কিন ফাস্ট’ পালন করছেন। কেন হঠাৎ ত্বককে উপবাসের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন? কেন এই কৃচ্ছ্রসাধন?
কারণ সন্ধানের আগে 'ত্বকের উপবাস'-এর অর্থ জেনে নেওয়া দরকার।
ত্বকচর্চার জগতে আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়তেই প্রসাধনীর ভিড় দেখা যায়। ধারণা খানিক এ রকম— যত বেশি পণ্য, তত বেশি যত্ন। সকালে আলাদা সিরাম, রাতে আলাদা অ্যাসিড, তার উপর মাস্ক, টোনার, স্ক্রাব— ত্বক যেন একেবারে পরীক্ষাগার! কিন্তু অতি সম্প্রতি নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে, তা-ও আবার সমাজমাধ্যমের দৌলতেই। এই পদ্ধতিতে কিছু দিন বিশ্রাম দেওয়া হয় ত্বককে। অতিরিক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার থেকে বিরতি নেওয়া হয়। অন্য ভাবে বললে, উপবাসে রাখা হয়। আর সেই নতুন প্রবণতার নামই ‘স্কিন ফাস্টিং’। মীরা এখন সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করছেন।
সব সময়ে বেশি পণ্য ত্বকের পক্ষে আদপে স্বাস্থ্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, অতিরিক্ত পরিচর্যার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তরই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই না বুঝে একসঙ্গে এএইচএ, বিএইচএ, রেটিনল, ভিটামিন সি-র মতো শক্তিশালী উপাদান ব্যবহার করে ফেলেন ত্বকে। ফলে জ্বালা, শুষ্কতা, লালচে ভাব বা অস্বস্তি দেখা দিতে থাকে। আর এখানেই কাজে লাগে ‘স্কিন ফাস্টিং’-এর ধারণা। অতিরিক্ত চাপ থেকে ত্বককে একটু বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ ত্বকের যত্ন মানে শুধু প্রসাধনী নয়— ঘুম, খাওয়াদাওয়া, জলপান, মানসিক স্বাস্থ্যেরও বড় ভূমিকা রয়েছে এর নেপথ্যে।
আরও পড়ুন:
তবে এখানে একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। উপবাসের সময়েও কিছু প্রসাধনী ব্যবহার করা জরুরি। যেমন, মৃদু ক্লিনজ়ার, ময়েশ্চারাইজ়ার আর সানস্ক্রিন বাধ্যতামূলক। মাঝেমধ্যে উপবাস ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে যদি ত্বক অতিরিক্ত রাসায়নিকের ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সব ধরনের প্রসাধনী হঠাৎ বন্ধ করে দিলে সবার ত্বকে সমান প্রভাব পড়ে না। যাঁদের ব্রণ, দাগছোপ বা অন্য কোনও ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ সব বন্ধ করা ঠিক হবে না।