রোদের তাপে যখন গাছপালা শুকিয়ে যায়, তখনও দিব্যি মাথা চাড়া দিতে পারে পুঁইশাক। একটু যত্ন করলেই, বারান্দা হোক বা এক চিলতে বাগান, গাছ বাড়বে তরতরিয়ে। যত্নআত্তির কৌশল জানলে, বছরভর ঘরেই মিলবে পুঁইডাঁটা। কী ভাবে বড় করবেন গাছ?
টব এবং মাটি: ১০-১২ ইঞ্চি লম্বা এবং চওড়া টব এই গাছের জন্য বেছে নিন। মাটির প্রস্তুতি জরুরি। শুরু থেকে তাতে যদি গাছের বেড়ে ওঠার উপাদান থাকে, তা হলে পরবর্তীতে বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হবে না। ৫০ শতাংশ দোআঁশ বা বেলেমাটির সঙ্গে যোগ করুন ২০ শতাংশ গোবর সার, ২০ শতাংশ পাতা পচানো সার, বাকি কোকোপিট এবং খোলের গুঁড়ো।
চারা: ভাল জাতের চারা বসান। চারা বসানোর পরে অল্প জল দিয়ে দিন মাটিতে। চারা থাকাকালীন সরাসরি চড়া সূর্যালোকে না রাখাই ভাল। তবে দিন কয়েক পরে টব রাখুন সরাসরি রোদ আসে, এমন জায়গাতেই। দিন ১৫ পরে গাছ কিছুটা বেড়ে উঠবে।
কঞ্চি: দিন ২৫-৩০ পর থেকে টবের দুই দিকে কঞ্চি গুঁজে মইয়ের মতো করে দিন। জল দিন টবের মাটির উপরের অংশ শুকিয়ে গেলে। গাছের গোড়ায় জল জমলে মুশকিল, শিকড় পচে যেতে পারে। তবে গাছ বেড়ে ওঠার সমস্ত শর্ত ঠিক থাকলে দিন ১৫-২০-র মধ্যেই গাছ ভাল ভাবে বেড়ে উঠবে।
শাক: পুঁইশাক বেড়ে উঠলে ছুরি দিয়ে কেটে নিন। গাছের নীচের দিকের বাড়তি পাতা, অতিরিক্ত শাখা-প্রশাখাগুলিও কিছুটা কেটে পরিষ্কার করে দিন। গোড়ার পাতা বেশি বড় হয়ে গেলে বা বেশি দিন রাখলে আর খাওয়া যাবে না।
সার: গাছ বেড়ে ওঠার সময় মাসে এক বার সর্ষের খোল ভেজানো জল মাটিতে ঢেলে দিন। এতে গাছের খাবারের জোগান ঠিক থাকবে।
এই ভাবে যত্ন করলে, কিছু দিন অন্তরই টাটকা ডাঁটা পেতে অসুবিধা হবে না। গাছ থাকবে সতেজ। তবে সতর্ক হওয়া দরকার পোকা বা রোগের আক্রমণ নিয়ে। প্রয়োগ করতে পারেন জৈব কীটনাশক।