Advertisement
E-Paper

দাঁড়িয়ে রান্না করতে করতে কোমর, হাঁটু ধরে যায়? ৫টি কৌশলে হেঁশেল হয়ে উঠুক বাড়ির আরামদায়ক কোণ

দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রান্না করতে গিয়ে পিঠে যন্ত্রণা? এর থেকে মুক্তি পাওয়ার নানা রকমের পন্থা আবিষ্কৃত হচ্ছে এখন। প্রযুক্তি ও বুদ্ধির সাহায্যে সেগুলি নিজের বাড়িতেও প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ১৯:৫৮
একটানা রান্না করতে গিয়ে কোমরে ব্যথা?

একটানা রান্না করতে গিয়ে কোমরে ব্যথা? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

আনাজ কাটো, মশলা কষাও, ঝোল ফোটার জন্য অপেক্ষা করো, আবার ভাতের ফ্যান গালো— ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রান্না করতে করতে কোমর, হাঁটু, পায়ের তলা, শিরদাঁড়ায় ব্যথা হয়ে যায়। ক্লান্তিতে দুমড়ে যায় পিঠ। তা-ও রান্না শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেহাই নেই। ঘরে ঘরে নিত্যদিনের গল্প। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এখনও এই ভোগান্তির শিকার বেশি হন মহিলারা। তার উপর যদি রান্নাঘর ছোট হয়, তা হলে এই যন্ত্রণা দ্বিগুণ হয়ে যায়। পিঠ টানটান করারও জায়গা নেই, বসে বিশ্রাম নেওয়ারও অবকাশ নেই। পঞ্চব্যঞ্জন রান্নার সময় বা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাগুলি আরও বাড়তে থাকে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার নানা রকমের পন্থা আবিষ্কৃত হচ্ছে এখন। প্রযুক্তি ও বুদ্ধির সাহায্যে সেগুলি নিজের বাড়িতেও প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

১. উঁচু টুলের ব্যবহার: রান্নাঘরের কাউন্টারের ধারে আরামদায়ক উঁচু বসার জায়গা রাখলে সব্জি কাটা, মশলা কষানো বা হালকা রান্নার কাজ বসেই করা যায়। এতে শরীরের উপর চাপ অনেকটাই কমে। কিন্তু মাথায় রাখবেন, টুলের উচ্চতা যেন এমন না হয়, যাতে নিচু হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পিঠ টানটান রেখে কাজ করার বন্দোবস্ত করতে হবে।

কাউন্টারের ধারে আরামদায়ক উঁচু বসার জায়গা।

কাউন্টারের ধারে আরামদায়ক উঁচু বসার জায়গা। ছবি: সংগৃহীত

২. ভাঁজ করা চেয়ার: একটি বুদ্ধিদীপ্ত উপায় হল, ভাঁজ করা বসার জায়গা। ছোট ফ্ল্যাট বা ছোট রান্নাঘরে দেওয়ালের সঙ্গে আটকানো ফোল্ডেব্‌ল চেয়ার ব্যবহার করতে পারেন। যখন প্রয়োজন পড়বে না, গুটিয়ে রাখতে পারবেন। আবার প্রয়োজনে টেনে নিয়ে বসে বসে রান্না করতে পারেন।

৩. নিচু কাউন্টারটপ: অনেক রান্নাঘরে এখন উঁচু কাউন্টারটপের পাশাপাশি নিচু ছোট্ট কাউন্টারটপও বানানো হচ্ছে, যাতে বসে বসে রান্না বা আনাজ কাটার কাজ করা যায়। বিশেষ করে বয়স্কেরা বা যাঁদের হাঁটু ও কোমরের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা উপযুক্ত।

৪. রান্নার প্রস্তুতি: হেঁশেলে কোন জিনিস কোথায় রয়েছে, সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি দিনের প্রয়োজনীয় হাঁড়ি, মশলা বা বাসন যদি হাতের কাছেই থাকে, তা হলে বার বার নিচু হওয়া বা ওঠানামা করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। ফলে শরীরের উপর চাপও কম পড়ে। তাই রান্নার প্রস্তুতিপর্বে সমস্ত জিনিস এক বারেই হাতের কাছে নিয়ে নিন। নয়তো বাসনের আলমারি বা মশলার তাক অথবা ফ্রিজ থেকে জিনিস নিতে বার বার নিচু হতে হবে।

‘অ্যান্টি-ফ্যাটিগ ম্যাট’।

‘অ্যান্টি-ফ্যাটিগ ম্যাট’। ছবি: সংগৃহীত

৫. গালিচা: ‘অ্যান্টি-ফ্যাটিগ ম্যাট’ অর্থাৎ ক্লান্তি দূর করে, এমন গালিচা— এটি এখন বেশ জনপ্রিয়। এটি এমন এক প্রকার গালিচা বা পাপোস, যা রান্নাঘরের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করতে করতে পায়ের উপর চাপ পড়ে। কারণ, শক্ত মেঝে থেকে গাঁটে ব্যথা বাড়তে পারে। বসে রান্না করা যদি সম্ভব না হয়, তা হলে এই গালিচায় দাঁড়িয়ে রান্না করতে পারেন। এতে অস্থিসন্ধি বা মেরুদণ্ডে চাপ কম পড়ে।

রান্নাঘর এমন হবে, যা পরিবারের আট থেকে আশির জন্য নিরাপদ। বয়স, শারীরিক সমস্যা বা ক্লান্তির কথা মাথায় রেখেই হেঁশেলের বন্দোবস্ত করা উচিত।

cooking tips Knee Pain Back Pain Problem Kitchen Hacks
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy