‘ব্লোটিং’ বা পেটফাঁপার সমস্যা সম্পর্কে কমবেশি সকলেই অবগত। কিন্তু মুখের ত্বকও যে ‘ব্লোটিং’ বা ফেঁপে ওঠার সমস্যায় ভোগে, তা জানতেন? কখনও কখনও এর নেপথ্যে থাকে জটিল কোনও রোগ, কখনও বা ত্বকজনিত সমস্যা। কখনও কখনও সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় তাকিয়ে মনে হয়, মুখ ফুলে রয়েছে? চোখের নীচে ফোলা ভাব, গাল টসটসে, মুখের গঠনটাই যেন বদলে গিয়েছে বলে মনে হয়। যদি বেলা গড়াতে গড়াতে ফোলা ভাব কমে যায়, তা হলে চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু যদি সারা দিন এই সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তা হলে অবশ্যই নেপথ্যে অনেক জটিল কারণ থাকতে পারে।
চোখমুখ ফুলে থাকলে কী করা উচিত? ছবি: সংগৃহীত
এই ঘটনার কারণগুলি কী কী?
১. সবচেয়ে সাধারণ কারণটি হল, জল জমে থাকা বা ‘ওয়াটার রিটেনশন’। অতিরিক্ত নোনতা খাবার খেলে শরীর জল ধরে রাখতে শুরু করে। ফলে সকালের দিকে মুখ, বিশেষ করে চোখের চারপাশ ফুলে যেতে পারে। রাতের খাবারে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপ্স বা ফাস্ট ফুড থাকলে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।
২. শরীরকে জলশূন্য করে দেওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে অ্যালকোহল। আর তার প্রতিক্রিয়ায় শরীর আবার অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে শুরু করে। ফলে পরের দিন মুখ ভারী ও ফোলা দেখাতে পারে।
৩. ঘুমের ঘাটতির প্রভাবও মুখে সরাসরি ধরা পড়ে। ঠিক মতো বিশ্রাম না পেলে শরীরে প্রদাহ বাড়ে এবং রক্তসঞ্চালনের ভারসাম্য বদলে যায়। ফলে চোখের নীচে ফোলা ভাব, মুখে ক্লান্তির ছাপ এবং ত্বকে জল জমার প্রবণতা দেখা দেয়।
৪. অনেক সময়ে অ্যালার্জিও এর কারণ হতে পারে। ধুলো, পরাগরেণু, প্রসাধনী বা কোনও খাবারের প্রতিক্রিয়ায় মুখ ফুলে যেতে পারে, বিশেষ করে চোখ ও ঠোঁটের আশপাশ। এর সঙ্গে চুলকানি বা লালচে ভাবও থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:
৫. হরমোনের হেরফেরও মুখ ফোলার জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষ করে ঋতুচক্রের আগে, অতিরিক্ত মানসিক চাপের সময়ে বা কিছু হরমোনজনিত রোগে শরীর বেশি জল ধরে রাখতে শুরু করে।
৬. এ ছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, কিডনির রোগ, সাইনাস ইনফেকশন বা বহু দিনের প্রদাহের কারণেও মুখ ফুলে যেতে পারে। যদি ফোলা ভাব দীর্ঘ দিন থেকে যায় বা সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ব্যথা, জ্বরের মতো উপসর্গ থাকে, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কী করলে মুখ ফুলে যাওয়ার সমস্যা কমাবেন?
· জল বেশি খেতে হবে। পর্যাপ্ত জল খেলে তা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দিতে পারে। ফলে অতিরিক্ত জল ধরে রাখার সমস্যা কমে যায়।
· নোনতা ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
· ঠান্ডা সেঁক বা ঠান্ডা চামচ চোখের উপর রাখলেও সাময়িক ভাবে ফোলা ভাব কমানো যেতে পারে।
· ঠান্ডা জলের ঝাপটা অনেক ক্ষেত্রে উপকার করতে পারে।
· আলতো করে মুখে মাসাজ করলেও ফোলা ভাব কমতে পারে।
· পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মাথা সামান্য উঁচু করে ঘুমোনোর অভ্যাসও এ ক্ষেত্রে উপকারী।